Friday 18 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য আসছে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:০৭

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত।

ঢাকা: দেশের দুর্গম উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজের নিচে ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণ পরিকল্পনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত। এ সময় নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো পিছিয়ে পড়া ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ভাসমান হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য তরী চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে দক্ষিণবঙ্গের অন্তত চার থেকে পাঁচটি জেলার ৩০ থেকে ৪০টি দুর্গম উপজেলায় জটিল কিন্তু সচরাচর দেখা যায় এমন রোগের আধুনিক চিকিৎসা ও সার্জারির ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।’

ড. এম. এ. মুহিত বলেন, ‘অতীতে বেসরকারি উদ্যোগে ক্ষুদ্র পরিসরে ভাসমান হাসপাতালের ভালো কিছু নজির রয়েছে। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নৌপরিবহণ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সীমিত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার কার্যকর সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সমন্বিত নৌ-ভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে তা উপকূলবাসীর জন্য যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামগঞ্জে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফদের মাধ্যমে নিরাপদ প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী যত্ন, শিশুস্বাস্থ্য, সাধারণ অর্থোপেডিক বা হাড়ের সার্জারি এবং চোখের ছানি অপারেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে দল গঠন করে এই জাহাজের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে এসব সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।’

এ সময় নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, ‘বরিশাল, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার দুর্গম চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিকল্প উপায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল। বিশেষ করে যেসব প্রান্তিক মানুষ চিকিৎসার জন্য চাইলেও জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা ঢাকায় যেতে পারেন না, তাদের দোরগোড়াতে সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নতুন সচিব ড. এ. এন. এম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ. কে. এম. বেঞ্জামিন রিয়াজীসহ বিআইডব্লিউটিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএইচ/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর