Friday 16 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ষষ্ঠী বিহিত পূজার মাধ্যমে শুভ সূচনা হলো দুর্গাপুজার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৭ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৪৯

ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে স্থাপিত বেলতলায় সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয় বিল্ববৃক্ষ বা বেলগাছ পূজা। ছবি: সারাবাংলা।

ঢাকা: শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রথম প্রভাতে জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে দেবী ষষ্ঠীর আরাধনার মাধ্যমে শুভ সূচনা হয়েছে সনাতন ধর্মের বৃহত্তম উৎসবের। পুরোহিতের সুনির্দিষ্ট সংকল্প এবং মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়েই শুরু হয় সকালের ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠী বিহিত পূজার আনুষ্ঠানিকতা।

মন্দিরে পূজা দিতে এসেছেন ভক্তরা। ছবি: সারাবাংলা।

শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে স্থাপিত বেলতলায় সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয় বিল্ববৃক্ষ বা বেলগাছ পূজার মূল আচার। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ও জাগরণের সূচনা ঘটে বেলবৃক্ষে দেবীর আবাহনের মাধ্যমে। পূজোর বেদিতে গাধা ও চন্দ্রমল্লিকার হলদে-কমলা মালায় সাজানো মণ্ডপে তাম্র  পাত্র , কাঁসার ঘণ্টি, শঙ্খ এবং পুষ্পাদানি সাজিয়ে বসেন পুরোহিতগণ। বেদিতে রাখা হয় পঞ্চপল্লব, আম্র  পল্লব, আতপ চাল, নারকেল, ঘট এবং ফুল-তুলসী ও রক্তজবা। বেলতলায় দেবীর বিশেষ অর্ঘ হিসেবে নানা রকমের কাটা ফল, আপেল, আঙুর, বাতাবি লেবু, কামরাঙ্গা ও মিষ্টি নিবেদন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আচারের অংশ হিসেবে পুরোহিত পঞ্চপ্রদীপ জ্বালিয়ে ও কাঁসার ঘণ্টি বাজিয়ে বেদির উপাচার শুদ্ধ করেন। এরপর শঙ্খধ্বনি ও ঢাক-কাঁসরের বাদ্যে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। নারী-পুরুষ ভক্তবৃন্দ অঞ্জলি ও প্রার্থনার জন্য করজোড়ে বেদির সামনে সমবেত হন। অনেক ভক্তই হাত জোড় করে আম্রপল্লব ও ফুল ধারণ করে দেবীর কৃপা কামনায় ভক্তিভরে প্রণাম জানান।

দেবীর বিশেষ অর্ঘ হিসেবে নানা রকমের কাটা ফল। ছবি: সারাবাংলা

মণ্ডপজুড়ে ঢাকের তালের সঙ্গে কাঁসর-ঘণ্টা ও শঙ্খের সমন্বিত ধ্বনি পুরো পরিবেশে এক অনন্য পবিত্র ও উৎসবমুখর আবহ তৈরি করে। এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটছে ঘোটকে এবং প্রস্থান নৌকায় শাস্ত্রীয় এই বার্তা মনে রেখে দেশ ও সমস্ত জীবের মঙ্গল কামনায় ভক্তদের প্রাণের আকুতিতে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল দিনগুলো।

আগামী বুধবার বিজয়া দশমী পর্যন্ত ছয়দিন ঢাকঢোল ও কাঁসরের বাদ্যে মুখর থাকবে পূজামণ্ডপগুলো। এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘোটকে (ঘোড়ায়)। বিদায় নেবেন নৌকায়। হিন্দু শাস্ত্রমতে, শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্ত্যলোকে আজ আসছেন। অসুর শক্তির কাছে পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছিলেন। এই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে একত্র হন দেবতারা। অসুর শক্তির বিনাশে অনুভূত হলো এক মহাশক্তির আবির্ভাব। দেবতাদের তেজ রশ্মি থেকে আবির্ভূত হলেন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা।

শঙ্খধ্বনি দিচ্ছেন পুরোহিত। ছবি: সারাবাংলা

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি দুর্গাপূজা হচ্ছে। গত বছর ৩২ হাজার ৩৫১টি দুর্গাপূজা হয়েছিল। আর ঢাকা মহানগরে এবার ২৫৮টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর ২৬১টি পূজার আয়োজন করা হয়েছিল।

এবার মহাসপ্তমী দুই দিন। আগামীকাল শনিবার ও পরদিন রোববার মহাসপ্তমী। আগামী সোমবার মহা অষ্টমী, মঙ্গলবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমী ও দেবী বিসর্জন। বিজয়ার দিন বেলা তিনটায় হবে ঢাকাসহ সারা দেশে শোভাযাত্রা।

 

সারাবাংলা/এফএন
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর