ঢাকা: গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুজনের নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র সংস্কার, জবাবদিহি ও ন্যায়ভিত্তিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের স্পষ্ট বার্তা। সেই বার্তা নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত না হলে নির্বাচন অর্থবহ হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই জাতীয় সনদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট ও স্বার্থহীন অঙ্গীকার করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গুম-খুনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।
সুজন নেতারা বলেন, গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে টিকে থাকে না। শক্তিশালী ও স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার অপরিহার্য। ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, মেধাভিত্তিক সমাজ গঠন, তরুণদের কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং ন্যায়সংগত স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনীতি, চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ, পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষা এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ইশতেহারে তুলে ধরার দাবি জানায় সংগঠনটি।
সুজনের নেতারা বলেন, নাগরিকরা নিখুঁত নেতৃত্ব নয়, বরং সৎ, জবাবদিহিমূলক ও দিকনির্দেশনামূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা চান। বর্তমান সময়কে সংকট নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের নতুন যাত্রার সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তারা।