Monday 05 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিএনপির মনোনয়ন পেয়েও অস্বস্তিতে শরিক দলের প্রার্থীরা

মো. মহসিন হোসেন স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৯ | আপডেট: ৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৫

ঢাকা: বড় দল বিএনপির কাছ থেকে মনোনয়ন পেলেও শরিক দলের প্রার্থীরা স্বস্তিতে নেই। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েছেন তারা। বিএনপির এই বিদ্রোহীরা মাঠে থাকলে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া তাদের জন্য কঠিন হবে বলে ধারণা করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি জোটের প্রার্থীরা বিদ্রোহী সংকটে পড়েছেন। বহু চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে বিএনপির মতো বড় দলের মনোনয়ন পেলেও স্থানীয়ভাবে বিএনপি নেতাদের বিরোধীতার মুখে রয়েছেন। কেউ কেউ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েও বিদ্রোহী প্রার্থীর চ্যালেঞ্জে পড়েছেন। ফলে বিজয়ী হওয়া তাদের জন্য কঠিন হবে এমনটাই বলছেন স্থানীয় ভোটাররা।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ঢাকা-১২ (তেজগাঁও-কারওয়ান বাজার-হাতিরঝিল) আসনে বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তার বিরুদ্ধে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতা সাইফুল আলম নীরব। এরইমধ্যে বিএনপি থেকে সাইফুল আলম নীরবকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু নীরব এখনো তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি। এতে সহজেই বোঝা যায় সাইফুল হক এখানে বিরোধীতার মুখে রয়েছেন। অপরদিকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর শক্ত প্রার্থী রয়েছেন। এই আসনে জামায়াত প্রার্থী করেছে তাদের দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনকে। এখন সাইফুল আলম নীরব আর মিলনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাঠে কতটা টিকে থাকতে পারবেন জোট প্রার্থী সাইফুল হক সেটা সময় বলে দেবে।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে ঢাকা-১৭ আসনটি দেওয়ার কথা ছিল বিএনপির। কিন্তু শেষ সময়ে ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফলে আন্দালিভ রহমান পার্থকে দেওয়া হয়েছে ভোলা-১ আসন। কিন্তু ওই আসনে ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীরকে আগেই মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এখন আন্দালিভ রহমান পার্থকে জোটের প্রার্থী করায় সেখানে স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীতার মুখে পড়বেন পার্থ।

যদিও আন্দালিভ রহমান পার্থ সারাবাংলাকে বলেন, আমি আমার দল থেকে ভোলা-১ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছি। আলমগীর চাচাও বিএনপি থেকে জমা দিয়েছেন। যেহেতু বিএনপি তাকে আগে মনোনয়ন দিয়েছিল সেজন্য তিনি জমা দিয়েছেন। এটা মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে সমঝোতা হয়ে যাবে।

তবে ভোলায় বিএনপির একটি অংশ তার বিরোধীতা করছে বলেও তিনি স্বীকার করেন পার্থ। তিনি বলেন, সব দলেই বিরোধীতা থাকে। রাজনীতির মাঠে বিরোধীতা স্বাভাবিক ঘটনা। জেলা সেক্রেটারির নেতৃত্বে একটি অংশ বিরোধীতা করলেও পরে ঠিক হয়ে যাবে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি ঋণখেলাপী হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন কি না সন্দেহ ছিল। সেজন্য উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তিনি মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছেন। কিন্তু শেষ দিন হাই কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে মান্না নির্বাচন করতে পারবেন বলে রায় পেয়ে মান্নাও ওই আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। অবশ্য শুক্রবার (২ জানুয়ারি) হলফনামায় তথ্য গরমিল থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান। তবে এ বিষয়ে মান্না আপিল করতে পারবেন বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

মাহমুদুর রহমান মান্না সারাবাংলাকে বলেন, ছোটখাটো ত্রুটিতে মনোনয়ন বাতিল হয় এটা আমার ধারণার বাইরে। হয়তো এখানে কোনো দুরভিসন্ধি কাজ করছে। আমি আপিল করব এবং আশা করি টিকে যাব। তিনি বলেন, বগুড়া-২ আসনে বিএনপি জোট থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিএনপির প্রার্থী থাকার কথা না। তারপরও তিনি কেন আছেন সেটা আমি বলতে পারবো না।

এদিকে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা-১৮ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। হলফনামা ও আয়কর রিটার্নের তথ্যে অসামঞ্জস্যতা থাকায় প্রথমে তার মনোনয়ন স্থগিত করা হলেও পরবর্তীতে সংশোধিত কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রেক্ষিতে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি হাসান মামুন। এরইমধ্যে হাসান মামুনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু হাসান মামুন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, আমাকে বহিষ্কারের আগেই আমি দল থেকে পদত্যাগ করেছি। এখানে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী হলেন অধ্যাপক মো. শাহ আলম মিয়া। ফলে লড়াই ত্রিমুখী হতে যাচ্ছে বলে বলছেন স্থানীয় জনগণ।

ঝিনাইদহ-৪ (কালিগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি তার দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পান। এই আসনে বিএনপির শক্ত ও জনপ্রিয় প্রার্থী ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

অপরদিকে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী রয়েছেন মো. আবু তালিব। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকলে রাশেদ খান বেকায়দায় পড়বেন এটা স্থানীয় ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে। রাশেদ খাঁন ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন সাবেক এমপি শহীদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন। ১ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকীকে বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাবেক এমপি আবদুল খালেক, শাহ মুর্তজা আলী, মেহেদী হাছান পলাশ। এরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরইমধ্যে আবদুল খালেক ও মেহেদী হাসান পলাশকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা সবাই শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকলে জামায়াতের প্রার্থী মো. মহসীন সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ আসনে প্রাথমিকভাবে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তাকে পরিবর্তন করে মুফতি রশিদকে মনোনয়ন দেওয়ায় এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এখানে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে না থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হকের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীরা। আর যদি বিএনপির শহীদ ইকবাল শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকেন তাহলে সুবিধা পাবেন জামায়াত প্রার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই আসনের একজন বিএনপির নেতা সারাবাংলাকে বলেন, যেদিন মুফতি রশীদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সেদিনই জামায়াত প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে গেছেন। তিনি দাবি করেন, এখানে শহীদ ইকবালের জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাকে সরিয়ে নেওয়ায় আসনটি হারাতে হবে।

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের (একাংশ) প্রার্থী মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এখানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভাগনে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিদ্ধান্ত মেনে শাহরিন ইসলাম তুহিন প্রার্থী না হলেও তার পিতা রফিকুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। তার মনোনয়নপত্র বাছাইতে বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তুহিনকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন কি না তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (একাংশ) বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসাইন কাসেমী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এখানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই দুজনকে গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণের ভাষ্য, উনারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকলে বেকায়দায় থাকবেন মনির হোসাইন কাসেমী।

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের (একাংশ) সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ। যিনি চাকসু মামুন নামে পরিচিত। তাকেও ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন যদি মামুন তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করেন তাহলে জামায়াত জোটের প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন।

ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের (একাংশ) সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দল থেকে বহিষ্কৃত বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ফলে জুনায়েদ আল হাবিব ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন হবেন বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া এই আসনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এস এন তরুণ দে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাকেও বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই দুজন মাঠে থাকলে বেকায়দায় থাকবেন জোট প্রার্থী এটা সহজ হিসাব।

নড়াইল-২ আসনে (লোহাগড়া উপজেলা ও সদরের একাংশ) ধানের শীষের ‘চূড়ান্ত মনোনয়ন’ পেয়েছেন ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তিনি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের আহ্বায়ক এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপির (অনিবন্ধিত) চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আগে ওই আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছিল নড়াইল জেলা বিএনপি সাধারণ মো. মনিরুল ইসলামকে। মনোনয়ন পরিবর্তন করার পর মনিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ সারাবাংলাকে বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি তথা তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যিনি প্রার্থী হয়েছেন তাকে আমি চ্যালেঞ্জ মনে করি না। মহাসচিবের (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন তিনি যদি প্রত্যাহার না করেন তাহলে দল তাকে বহিষ্কার করবে। ধানের শীষের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে কেউ সবিধা করতে পারবে না।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ড. কর্নেল অলি আহমদের দল এলডিপির মহাসচিব ছিলেন। গত ২৪ ডিসেম্বর নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে যোগ দেন বিএনপিতে। এরপর তিনি মনোনয়ন পান। এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ড. রেদোয়ান আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, শাওন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। আমি আমার আসনে কাউকে চ্যালেঞ্জ মনে করি না। আশা করি আমি লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো।

দলের পদে থেকে বিদ্রোহী হওয়ার কারণে আতিকুল আলমকে বহিষ্কার করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা দলের হাই কমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে। ইতোমধ্যে ৯জনকে বহিষ্কার করে দল থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। শুধু আমার আসনেই নয়, সারাদেশে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবে তাদেরকে জন্য এটা বড় ধরনের বার্তা।

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলে ২৪ ডিসেম্বর তাকে একই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়ন পরিবর্তনের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে নিকলী–বাজিতপুর এলাকায় শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের সমর্থকেরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পরিবর্তন না হওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

বঞ্চিত হয়েছেন যারা

পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী) আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারকে প্রাথমিকভাবে জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তা প্রত্যাহার করে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে পিরোজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেনকে। জানা গেছে, মনোনয়ন বাতিল করার কারণে মোস্তফা জামাল হায়দার মনোনয়ন জমা দেননি। ২০ দলীয় জোট ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ১২ দলীয় জোট গঠন করে ওই জোটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোস্তফা জামাল হায়দার। তার সমর্থকরা বলছেন, জামাল হায়দারকে বঞ্চিত করা হলো।

এদিকে ২০ দলীয় জোট ও পরে যুগপৎ আন্দোলনে শরীক থাকা অনেকগুলো দলের প্রধানরা জোটের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় থাকলেও তারা পাননি। এর মধ্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বিএনপির সঙ্গ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে এককভাবে ঢাকা-১২ ও ঝালকাঠী-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মনোনয়ন পাননি বাংলাদেশ ন্যাপ(একাংশের) চেয়ারম্যান শাওন সাদেকী। তিনিও দীর্ঘ দিন বিএনপি জোটের সঙ্গে ছিলেন। এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটের (একাংশ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাওলানা আবদুর রকিব মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন পাননি গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী ও ডা. মিজানুর রহমান। তারাও দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন। লক্ষীপুর-৪ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার কথা ছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-(জেএসডি) চেয়ারম্যান আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রবকে। তিনিও শেষ মুহূর্তে জোটের মনোনয়ন না পেয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী হয়েছেন। এই দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ২০১৮ সালে ঢাকা-১৮ আসন থেকে জোটের মনোনয়ন পেলেও এবার মনোনয়ন পাননি।

বিজ্ঞাপন

আরো

মো. মহসিন হোসেন - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর