Wednesday 28 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

১০-১৫ দিনের মধ্যে সমঝোতায় না পৌঁছালে ইরানে সামরিক হামলার হুমকি ট্রাম্পের

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৫
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবার হুমকি দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানের হাতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন সময় আছে, অন্যথায় সামরিক হামলার মুখোমুখি হতে হবে।

আল জাজিরায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী সভায় বক্তৃতাকালে ট্রাম্প এ হুমকি দেন।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলা গাজায় ‘যুদ্ধবিরতির’ পথ তৈরি করেছিল।

ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা না হলে, তেহরানের ‘হুমকি’ এই অঞ্চলের দেশগুলোকে ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি’ প্রতিষ্ঠায় একমত হতে বাধা দিত।

বিজ্ঞাপন

চুক্তি সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাই এখন আমাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে হতে পারে, অথবা নাও হতে পারে। হয়তো আমরা একটি চুক্তি করতে যাচ্ছি। আপনারা সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যে জানতে পারবেন।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনার কয়েকদিন পর এসেছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, জেনেভায় উভয় পক্ষের আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি চুক্তির জন্য ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।

কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপকরণ মোতায়েন অব্যাহত রেখেছে, যার মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, তার কূটনৈতিক সহযোগী স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘খুব ভালো বৈঠক’ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তি করতে হবে। অন্যথায়, খারাপ কিছু ঘটবে।’

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, আগামী মাসের মধ্যে আমেরিকা ও ইরানের একটি চুক্তিতে আসা উচিত, অন্যথায় তেহরানকে ‘খুব মর্মান্তিক’ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

কিন্তু ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকিকে অস্বীকার করেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি বৃহস্পতিবার তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, আমেরিকানরা ক্রমাগত বলে আসছে যে তারা ইরানকে লক্ষ্য করে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। অবশ্যই, যুদ্ধজাহাজ একটি বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম।
তবে, সেই যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র যা যুদ্ধজাহাজকেও সমুদ্রের তলদেশে পাঠাতে পারে।

ইরান অবশ্য বরাবরই তাদের পারমাণবিক শক্তি মজুতকরণের কথা অস্বীকার করে আসছে। তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ রোধ করতে তাদের দেশে আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের সুযোগ দিতেও রাজি।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে তারা ইরানে যেকোনো ধরণের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের বিরোধি। ওয়াশিংটন তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রাগারের ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইরানি কর্মকর্তারা এই বিষয়ে কোনও ছাড় দিতে রাজি না, তারা বলেছে প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।

২০২৫ সালের শেষের দিক থেকে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা বাড়ছে। সে বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানানোর সময় ইরানের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করলে আবারও হামলা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু
২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩৫

আরো

সম্পর্কিত খবর