ঢাকা: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গঠিত ১১ দলীয় জোট পূর্ণাঙ্গভাবে ‘আজাদির’ পক্ষে কাজ করবে বলে ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে শহিদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই নতুন রাজনৈতিক যাত্রার ঘোষণা দেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, শহিদ হাদির স্বপ্নের আজাদির লড়াই আজ থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলেন এবং এই জোট কোনো ধরনের গোলামির রাজনীতির কাছে মাথা নত করবে না।
এ সময় প্রশাসনের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের সরকারি প্রশাসন এখন একটি নির্দিষ্ট দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তার মতে, প্রশাসন বর্তমানে বিএনপির দিকে হেলে পড়েছে।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার আমলের সেই পুরনো অপসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনছেন এবং অফিস ফেলে রেখে রাজনৈতিক নেতা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের মানুষ আর কোনো নতুন গোলামির রাজত্ব দেখতে চায় না এবং প্রশাসনের এমন দলকানা মনোভাব কোনোভাবেই কাম্য নয়।
শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের নির্লিপ্ততার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও আজও হাদির খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি সরকার। এই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্টভাবে জানান, এগারো দলীয় জোটের মূল ভিত্তি হবে আজাদি এবং তারা হাদির অসমাপ্ত লড়াইকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যাবেন।
একইসঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ ও রমনা এলাকা নিয়ে বিশেষ ঘোষণা দেন তিনি। তিনি বলেন, আজ থেকে শাহবাগ ও রমনা এলাকাগুলোকে তারা ‘আজাদির এলাকা’ হিসেবে গণ্য করবেন। এই নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি বা অপশক্তিকে গ্রাহ্য করা হবে না বলে তিনি কঠোর বার্তা দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জোটের প্রচারণার ধরণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেন। তিনি জানান, তাদের রাজনৈতিক প্রচারে শুধুমাত্র আজাদির বার্তা থাকবে এবং এখানে অন্য কোনো অপ্রাসঙ্গিক বা বিতর্কিত বিষয় সামনে আনা হবে না। মূলত শাপলা কলি বা এ জাতীয় কোনো ইস্যুকে তারা এই মুহূর্তে সামনে আনতে চান না। হাদির আজাদির লড়াইকে বেগবান করাই তাদের জোটের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।