Wednesday 07 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইএএসডির জরিপ
বিএনপির পক্ষে ৭০ শতাংশ ভোটার, জামায়াত পাবে ১৯ শতাংশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৯ | আপডেট: ৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:২২

গবেষণা সংস্থা ইএএসডি পরিচালিত জরিপের ফলাফল উপস্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে এক জনমত জরিপে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন ১৯ শতাংশ ভোটারের। নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি পেয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের একটি বড় অংশও এবার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কেআইবি মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার জানান, দেশের ৩০০ সংসদীয় আসন থেকে সশরীরে মোট ২০ হাজার ৪৯৫ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয় ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

‘আগামী নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন?’— এই প্রশ্নে ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপির প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানান। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ভোট দিতে চান বলে জানিয়েছেন ১৯ শতাংশ ভোটার। এনসিপির পক্ষে মত দিয়েছেন ২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থনের কথা বলেছেন ৫ শতাংশ এবং ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা।

নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির প্রতি সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া নারী ভোটারদের ৭১ শতাংশ বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছেন, যা পুরুষ ভোটারদের তুলনায় সামান্য বেশি। ইএএসডির মতে, এই পরিসংখ্যান নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির প্রতি আস্থার শক্ত অবস্থান নির্দেশ করে।

ভৌগোলিক বিভাজন অনুযায়ী দেখা যায়, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে বিএনপির প্রতি সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ সমর্থন পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বরিশাল ও খুলনা বিভাগে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত। বরিশালে ২৯ শতাংশ এবং খুলনায় ২৫ শতাংশ মানুষ জামায়াতকে ভোট দিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের রংপুর অঞ্চলে জাতীয় পার্টির সমর্থন তুলনামূলক বেশি, যেখানে দলটি ৫ দশমিক ২ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছে। সারাদেশে জাতীয় পার্টির মোট সমর্থন ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

‘নির্বাচনের পর কোন দল সরকার গঠন করবে?’— এই প্রশ্নে ৭৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিএনপি সরকার গঠন করবে। ১৭ শতাংশের ধারণা, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হতে পারে। এনসিপির সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথা বলেছেন ১ শতাংশের কিছু বেশি মানুষ।

একইভাবে ‘আগামী নির্বাচনে কে জিতবে?’ প্রশ্নে ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, তাদের নিজ নিজ সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হবেন। ১৮ শতাংশ মনে করেন জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হতে পারেন। এনসিপির ক্ষেত্রে এই হার ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে ১ শতাংশের কিছু বেশি।

জরিপে আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের বর্তমান রাজনৈতিক ঝোঁকও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের পূর্ববর্তী ভোটারদের ৬০ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। ২৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন এবং বাকি ১৫ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকেছেন।

এছাড়া ‘গত নির্বাচনে কাকে ভোট দিয়েছেন বা দিতে চেয়েছিলেন?’—এই প্রশ্নে ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা বিএনপিকে ভোট দিতে চেয়েছিলেন। ২৭ শতাংশ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছেন বা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ভোট দেওয়ার আগ্রহ ছিল ৫ শতাংশের কিছু বেশি মানুষের।

সার্বিকভাবে জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটতে পারে, যেখানে বিএনপি সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে এবং জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে দৃশ্যমান।

সারাবাংলা/এফএন/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর