Sunday 11 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আসুন দেশের মানুষের জন্য কাজ করি: তারেক রহমান

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৮ | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৪

সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে কথা বলছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কাউকে আঘাত না করে আমি বলতে চাইছি, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-সদস্য কাউকে আমি আঘাত করতে চাই না। আমি আমার চিন্তাটা শুধু উনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই যে, আসুন আমরা দেশের মানুষের শিক্ষা, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, দেশের নারীদের অধিকার, এমপাওয়ারমেন্ট ও কর্মসংস্থান পরিবেশ নিয়ে কাজ করি।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বনানীর হোটেল শেরাটনের বলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে এই যে বিষয়গুলো যেটি একটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য। আমরা অনেকদিন ধরে রিফর্মের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এই রিফর্মের মধ্যে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, তিনটি পার্ট আছে। একটি হচ্ছে সাংবিধানিক পার্ট, একটি হচ্ছে আইনগত পার্ট এবং আরেকটি হচ্ছে মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা নিরাপত্তা, তাদের সিকিউরিটি সবকিছু নিয়ে একটি পার্ট আছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে, আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর আমি দেশে এসে একটি কথা বলেছিলাম, মার্টিন লুথার কিং যেমন ৬২ বছর আগে বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম।’ আমি বলেছিলাম, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান।’ সেই প্ল্যানের মধ্যে একটি অংশ আছে, বাংলাদেশের যে হাফ পপুলেশন নারী তাদের ঘিরে। সেটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। যেমন, ফ্যামিলি কার্ড এর একটি পরিকল্পনা… একজন নারী এটা পাবেন, একজন গৃহিনী বা একজন হাউজওয়াইফ এটা পাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কার্ডটি সারাজীবনের জন্য নয়, ৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেব। এই ৫ থেকে ৭ বছর তাকে আমরা একটা সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করব। সবাই এক কার্ড পাবেন। আমি যে ফ্যামিলি কার্ডটির কথা বলেছিলাম সেটির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে, বাংলাদেশে চার কোটি ফ্যামিলি আছে।’

চেয়ারম্যান হিসেবে গত রাতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের দিনের প্রথম কর্মসূচি শুরু করেন সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন মতপার্থক্য আছে। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আজকে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছে সামগ্রিকভাবে সমাজের সকল মানুষের কাছে আমি একটি বিনীত আহ্বান রাখতে চাই যে, আমাদের বিভিন্ন মত পার্থক্যগুলো যাতে আমরা আলোচনা করতে পারি, আলাপ করতে পারি। আমাদের যেকোনো মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস যেটা আমরা ১২ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকে ইনশাল্লাহ শুরু করতে যাচ্ছি। আমাদের যেকোনো মূল্যে হোক ডেমোক্রেটিক প্রসেসটা চালু রাখতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের জবাবদিহিতাটা চালু রাখতে হবে যেকোনো মূল্যে। সেটি জাতীয় পর্যায়ে হোক, লোকাল পর্যায়ে হোক অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হোক, পৌরসভা নির্বাচন, লোকাল পর্যায়ে নির্বাচন হোক, সেটা কোনো ট্রেড বডির ইলেকশন হোক। আমার যেটা বিশ্বাস, আমরা যেকোনো মূল্যে যদি এই জবাবদিহিতাটা, গণতান্ত্রিক প্রসেসটা কন্টিনিউ করতে পারি, অনেক বেগ হয়তো আসবে, অনেক কঠিন হবে; কিন্তু একটা সার্টেন টাইম পর যদি গণতান্ত্রিক প্রসেসটাকে কন্টিনিউ করে যেতে পারি তাহলে নিশ্চয়ই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হব।’

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। অনুষ্ঠানে সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন।

যারা উপস্থিত ছিলেন

অনুষ্ঠানে সম্পাদকদের মধ্যে যায় যায় দিনের শফিক রেহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, মানব জমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, দৈনিক ইনকিলাবের এএমএম বাহাউদ্দিন, আমার দেশের মাহমুদুর রহমান, নিউএজের নুরুল কবির, যুগান্তরের আবদুল হাই শিকদার, সংবাদের আলতামাশ কবির, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এর ইনাম আহমেদ, কালের কণ্ঠের হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, প্রতিদিনের বাংলাদেশ’র মারুফ কামাল খান সোহেল, দেশ রূপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, নয়াদিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, বণিক বার্তার হানিফ মাহমুদ, ডেইলি সানের মো. রেজাউল করিম, সুরমা‘র (লন্ডন) শামসুল আলম লিটন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, মানবকন্ঠের শহীদুল ইসলাম, দেশ বার্তার সালেহ বিপ্লব, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, নয়াদিগন্তের মাসুমুর রহমান খলিলী, প্রথম আলোর সাজ্জাদ শরীফ, সময়ের আলো’র সৈয়দ শাহনাজ করিম, জনকণ্ঠের খুরশীদ আলম, বাংলা বাজার পত্রিকার রাশেদুল হক, যুগান্তরের এনাম আবেদীন, টাইম অব বাংলাদেশ’র ইলিয়াস খান, আমাদের সময়ের নজরুল ইসলাম, দৈনিক নাগরিক সংবাদের সুমন প্রামানিক, দিকপালের সম্পাদক শাহীন রাজা, নাগরিক প্রতিদিন হাসনাইন খরশীদ প্রমুখ ছিলেন।

অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আল দীন, প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা স্টিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ঢাকা মেইলের সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সুবহান, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম। এদের বাইরে ছিলেন- বিবিসির সম্পাদক সাবির মোস্তফা, বিশেষ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, আল জাজিরার তানভীর চৌধুরী, রয়টার্সের রুমা পাল, এএফপির শেখ সাবিহা আলম প্রমুখ।

টেলিভিশন সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুব আলম, জেনারেল ম্যানেজার নুরুল আজম পবন, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জেডএম জাহেদুর রহমান, বেসরকারি টেলিভিশনের শীর্ষ প্রধানদের মধ্যে সময় টিভির জুবায়ের আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এনটিভির ফখরুল আলম কাঞ্চন, মোস্তফা খন্দকার, ইটিভির আবদুস সালাম, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, ডিবিসির লোটন একরাম, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, এটিএনের হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবীর সুমন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরীফুল ইসলাম খান, গ্রিন টিভির মাহমুদ হাসান, গাজী টিভির গাউসুল আজম দীপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, মাছরাঙার রেজানুল হক রাজা, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জহিরুল আলম, আরটিভির ইলিয়াস হোসেন, মোহনা টিভির এমএ মালেক, স্টার টিভির ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, এখন এর তুষার আবদুল্লাহ, ইন্ডিপেনডেন্টের মোস্তফা আকমল, মাইটিভির ইউসুফ আলী প্রমুখ।

ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, এম এ আজিজ, নুরু উদ্দিন নুরু, একেএম মহসিন, শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, খাজা মাইন উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম রনি, হাফিজুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন রিপন, হাফিজুর রহমান সরকারসহ বিভিন্ন পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিকরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এদের বাইরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন, মিড়িয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমার রুমন, শাম্মী আখতার, শায়রুল কবির খান, আবু সায়েম, বিএনপির সাইমুম পারভেজ, শামসুদ্দিন দিদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/পিটিএম