ঢাকা: দেশের আগামী নির্বাচনে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হবেন, তাদের ওপর শ্রমিক ইশতেহার বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব বর্তাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘শ্রমজীবী মানুষ দেশের একটি বিশাল অংশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তাদের গুরুত্ব অপরিসীম।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান জনতাত্ত্বিক কাঠামোর একটি চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘মহান স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। অথচ আজ দেশে শুধুমাত্র শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যাই দাঁড়িয়েছে সাড়ে সাত কোটিতে। এই বিশাল জনগোষ্ঠী সবাই ভোটার এবং তারা নিজ নিজ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ফলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপরও তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা আসবেন, তাদের জনকল্যাণমূলক কাজের প্রধান অংশ হতে হবে এই শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করা।’
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘শ্রমিক ইশতেহারে বর্ণিত দাবি ও আকাঙ্ক্ষাগুলো কোনো অবাস্তব চাওয়া নয়। এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে দেশের সংবিধান, প্রচলিত শ্রম আইন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল দীর্ঘকাল ধরে এসব অধিকার রক্ষা করা, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বহু বছর ধরে রাষ্ট্র এই দায়িত্ব পালন করেনি।’ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তারা এই অনিবার্য দায়িত্ব পালনে উদ্যোগী হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শ্রমজীবী মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘একজন শ্রমজীবীর উপার্জনেই পরিবারের বেকার সদস্যের জীবন চলে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার খরচ মেটানো হয়। তাই শ্রমিকদের সামর্থ্য বাড়ানো মানেই পুরো দেশের সক্ষমতা বাড়ানো। এই লক্ষ্যেই বিএনপির পক্ষ থেকে শ্রমিক ইশতেহার সব রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি প্রত্যাশা করেন যে, নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবেন তারা এটি বাস্তবায়ন করবেন এবং যারা বিরোধী দলে থাকবেন তারা এটি বাস্তবায়নে সরকারকে চাপ দেবেন।
দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় শ্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি, শিল্প বা সেবা খাত—যেকোনো ক্ষেত্রেই শ্রমজীবী মানুষের স্পর্শ ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে তাদের অবদান অনিবার্য। তাই জাতীয় স্বার্থেই শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য পাওনা এবং কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণের স্বার্থে শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তি ও অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের রাজনীতিকদেরই নিতে হবে, যাতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারেন।’