ঢাকা: শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণে সম্পদ সৃষ্টি এবং সঠিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
তিনি বলেন, ‘কেবল সংবিধানে অধিকার লিখে রাখলেই হবে না, বরং সেই অধিকার বাস্তবায়নে সম্পদের সুষম বণ্টন ও কার্যকর অর্থনৈতিক দর্শন প্রয়োজন।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান তার বক্তব্যে শ্রমিকদের ‘দেশ গড়ার কারিগর’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও আজ কেন শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে নতুন করে দাবি তুলতে হচ্ছে, তা এক বড় প্রশ্ন।’
১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটের শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেড়শ বছর অতিক্রান্ত হলেও শ্রমিকদের মৌলিক অনেক দাবি আজও অপূরণীয় রয়ে গেছে। শ্রমিকরা দেশ গড়ার কারিগর হওয়া সত্ত্বেও তাদের দাবি পূরণ না হওয়া একটি বড় ধরনের বৈপরীত্য।’
সাবেক এই পরিকল্পনামন্ত্রী অর্থনৈতিক দর্শনের ওপর আলোকপাত করে জানান, বিএনপি একটি মধ্যপন্থী ও উদারপন্থী রাজনৈতিক দল হিসেবে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে।
তবে একইসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়ন দর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘শুধু ভৌত অবকাঠামো বা বেসরকারি খাতের উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন নয়। তৃণমূলের দরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন নিশ্চিত করাই ছিল তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।’
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ধনী রাষ্ট্রগুলোর ট্যারিফ যুদ্ধের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়ে।’
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। শ্রমিক ও সাধারণ জনতাকে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর সঠিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। কেউ কাউকে অধিকার এমনিতে দিয়ে দেয় না; বিশেষ করে যারা সুবিধাবঞ্চিত, তাদের নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।’
অনুষ্ঠানে বিএনপির অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ‘শ্রমিক ইশতেহার’ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যারা আগামীতে ক্ষমতায় আসবে, এই ইশতেহার বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তাবে। আর যারা ক্ষমতার বাইরে থাকবে, তাদের কাজ হবে সরকারকে নিয়মিত চাপের মুখে রাখা।’
অনুষ্ঠানে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুননসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।