Monday 12 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

খালেদা জিয়া আজ বিশ্বব্যাপী সম্মানের প্রতীক: সেলিমা রহমান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০৮ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৭

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান।

ঢাকা: বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বব্যাপী সম্মান ও মর্যাদার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও শোক সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয়তাবাদী নবীন দলের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিল আয়োজিত হয়।

সেলিমা রহমান বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃত করার যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, সত্য ইতিহাস কখনো চাপা থাকে না। যাকে তিলে তিলে নিঃশেষ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, আজ সেই বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বব্যাপী সম্মান ও মর্যাদার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও কারাবাস পেরিয়ে তিনি যে বিশ্ব মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তার প্রমাণ তার কবর জিয়ারতে মানুষের ঢল। ক্ষমতায় না থেকেও মানুষের হৃদয়ে সর্বোচ্চ সম্মান নিয়ে তিনি বিদায় নিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন—এটি শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, এটি একটি মহাকালের পতন, একটি মহান অধ্যায়ের সমাপ্তি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম শেষে তিনি মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন। তার চলে যাওয়ায় বাংলাদেশের আকাশ থেকে যেন একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়েছে। যদিও তিনি আজ আমাদের চোখের আড়ালে, তবুও তার আদর্শ, চিন্তা ও চেতনা আজও আমাদের মননে দীপ্ত হয়ে জ্বলছে। সেই আলো থেকেই বিএনপি ও দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ সাহস ও প্রেরণা পাচ্ছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন। বিএনপি চায় একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। এই আন্দোলন ও সংগ্রামে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’

‘বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মধ্যে নেই—এটি বেদনাদায়ক, কিন্তু আমরা এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার চেষ্টা করছি। এই শক্তিই আজ বাংলাদেশের জনগণের শক্তিতে পরিণত হয়েছে।’

সেলিমা রহমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সারাজীবন ছিল সংগ্রামে ভরা। তিনি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পতাকা দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রেখেছেন এবং সব প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি যে নির্যাতন, নিপীড়ন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন, তা কোনোভাবেই তার প্রাপ্য ছিল না। তবুও তিনি আপসহীন দেশপ্রেমে অবিচল ছিলেন এবং কখনো আদর্শ থেকে সরে যাননি।’

তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে তিনি একটি আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। তার সেই সাফল্য ও জনপ্রিয়তাই তাকে গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার করে। তার শাহাদাতের পর দেশের ও দলের প্রয়োজনে বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন। তিনি কখনো ক্ষমতার মোহে রাজনীতি করেননি; তিনি রাজনীতি করেছেন দেশ, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য।’

বেগম সেলিমা রহমান আরও বলেন, ‘প্রকৃত সংস্কারের সূচনা শহিদ জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমেই হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বেগম খালেদা জিয়া তার ভিশন ও কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় সংস্কারের পথ দেখিয়েছেন। আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই চিন্তা ও দর্শন রাষ্ট্র সংস্কারের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখায় রূপ নিয়েছে।’

জাতীয়তাবাদী নবীন দলের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফি, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, সাবেক সংসদ সদস্য নূর আফরোজ জ্যোতি, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতুল্লাহ, মাহবুবুর রহমান হারেজসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর