নীলফামারী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছে একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার।
ইসির ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। যা জেলা রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দফতরে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আরিফুর রহমান সই করা নির্দেশনায় জানা যায়, আগামী ১৭ জানুয়ারি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার বলেন, ‘জাপা প্রার্থী তার হলফ নামায় গত ৫ আগস্টের পর ঢাকার ৪টি থানায় হওয়া মামলার তথ্য গোপন করেছেন। এ নিয়ে আমরা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন যাচাইয়ের দিন অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি। তাই বাধ্য হয়ে ইসিতে আপিল করেছি। তাছাড়া সিদ্দিকুল আলম বিগত ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিল। তাই তার মনোনয়ন বাতিল হওয়া উচিত। আশা করি আগামী ১৭ জানুয়ারি তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা হবে।’
জাপা প্রার্থী আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থী আমার বিজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে ষড়যন্ত্র করছেন। আমি হলফনামায় জ্ঞাত সকল বিষয়ই উল্লেখ করেছি। শুধু আমার অজান্তে হওয়া একটি মামলার কোনো তথ্য পুলিশ রেকর্ডে না পাওয়ায় সে সংক্রান্ত তথ্য সংযোজন করা হয়নি। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও মামলার বাদীর মাধ্যমে আদালতেই করা এভিডেভিট জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। তাই আশা করি শুনানিতে আমার মনোনয়ন বৈধ হিসেবেই গৃহিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিগত দ্বাদশ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলাম। আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলাম না। আমি কোনো দখলবাজি, চাঁদাবাজির সঙ্গে কখনই জড়িত হইনি। তাহলে কেন আমার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলা হবে। বরং আমার ছেলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছিল এবং আমার পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মূলত ওই মামলাটিও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ইন্ধনেই আমার নামে করা হয়েছে। আমি নির্বাচন করব এবং বিজয়ী হবো এই আশঙ্কাতেই তাদের এমন ষড়যন্ত্র। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। যদিও পুরো ইসিতে বিএনপি’র একটা প্যানেল বসানো হয়েছে। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কৌশলে বাতিল করে দিয়েছে। এ জন্যই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী না হয়ে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়েছি। কোনো কারণে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হলে জাতীয় পার্টিই নির্বাচন বয়কট করবে।’