ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ২৯ দিন বাকি। চলছে মনোনয়নের আপিল নিষ্পত্তি। সেইসঙ্গে চলছে মনোনয়ন প্রত্যাহারও। কিন্তু কিছু কিছু আসন নিয়ে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল যেন স্বস্তির অবস্থানে আসতেই পারছে না। কারণ, শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতার পরও অনেক আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এতে দলীয় প্রার্থীরা যেমন উদ্বেগের মধ্যে আছেন, তেমনি হাই কমান্ডও চিন্তিত।
ফলে দলের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। কাউকে আবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডাকা হচ্ছে। যদিও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দিয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, সংকট নিরসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে থাকা দলীয় নেতাদের নির্বাচন থেকে সরাতে তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায় থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি করানোর উদ্যোগ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিশেষ করে যেসব আসনে সমঝোতার ভিত্তিতে জোট শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব আসনে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে ধানের শীষ বা জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি।
একইসঙ্গে সরকার গঠন হলে তাদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। বহিষ্কৃত নেতাদের ক্ষেত্রেও শিগগিরই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা নেতারা নির্বাচনে না থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বিএনপির আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে। এ কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করবে দলটি।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নেতাদের বিএনপি ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে দেখলেও তাদের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ও ত্যাগ বিবেচনায় এখনই কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে না দলীয় হাইকমান্ড। বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে। দলীয়ভাবে এই প্রক্রিয়াকে ‘বিদ্রোহীদের’ জন্য শেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরপরও কেউ নির্বাচনের মাঠে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় নয়জনকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তবে, বহিষ্কারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে দলের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দলের হাইকমান্ড মনে করছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। তাই দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষাই এখন বিএনপির সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত কঠিন মনে করছে দলটি।
আসন্ন নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে ১৭টি আসনে সমঝোতা করেছে বিএনপি। ১২টি দলের সঙ্গে হওয়া এ সমঝোতায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ছাড়া বাকিগুলো ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক। তাদের কেউ বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষে, আবার কেউ সংশোধিত আরপিওর কারণে নিজেদের দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদের মধ্যে বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, ভোলা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, সিলেট-৫ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, নীলফামারী-১ আসনে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, যশোর-৫ আসনে জমিয়তের (অনিবন্ধিত) রশিদ বিন ওয়াক্কাস, নড়াইল-২ আসনে ‘অনিবন্ধিত’ এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান।
ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সৈয়দ এহসানুল হুদা। কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির রেদোয়ান আহমদ এবং হবিগঞ্জ-১ আসনে আমজনতার দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক (পরে বিএনপিতে যোগদান) রেজা কিবরিয়াকে আসন ছেড়েছে বিএনপি। অবশ্য মান্না ঢাকা-১৮ আসনেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তিনি।
জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রেদোয়ান আহমদ, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, রাশেদ খান, শাহাদাত হোসেন সেলিম, সৈয়দ এহসানুল হুদা, রেজা কিবরিয়া ও ববি হাজ্জাজ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। আর ঢাকা-১২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, পটুয়াখালী-৩, ঝিনাইদহ-৪, নড়াইল-২, যশোর-৫ সহ শতাধিক আসনে এখনো বিএনপির ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীরা’ নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।
এদিকে জোটের শরিক নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, তাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোয় কোনো ব্যানারেই বিএনপি নেতাদের রাখা যাবে না। সেখানে বিজয় নিশ্চিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে থাকা বিএনপির নেতারাই প্রধান বাধা।
নমিনেশন দাখিলের পর দেখা গেছে, একদিকে জোটের প্রার্থীদের ধানের শীষ অথবা সমঝোতার ভিত্তিতে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিএনপির নেতারাও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন। এ অবস্থায় মিত্রদের কাছে যাতে কোনো ভুল বার্তা না যায়, জোটের ঐক্যে কোনো ফাটল না ধরে, সেজন্য বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বিএনপি।
ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোয় জোট নেতাদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে চায় দলটি। তাই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে সরাতে অঞ্চলভিত্তিক বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সরাসরি কথা বলছেন। আগামী নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। একইসঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হচ্ছে। আর সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে তারেক রহমান নিজেই ঢাকায় ডেকে তাদের কারও কারও সঙ্গে কথা বলছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতির জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেককে গত ৮ জানুয়ারি ঢাকায় ডেকে কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জানা গেছে, এ সময় তাকে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে সাকির পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন আব্দুল খালেক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে বিএনপির বিএনপির প্রার্থী নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হান্নান। এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে ছিলেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা শিল্পপতি একরামুজ্জামান। তিনি আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) একরামুজ্জামানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিএনপি।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। সেখানে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার তাকেও গুলশান কার্যালয়ে ডেকে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কথা বলেছেন।
মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে সৃষ্ট জাতীয় শোকের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ রাজনৈতিক আনুগত্য রেখে আমি আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী দলের হাই কমান্ডের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে মিজানুর রহমান চৌধুরী নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তার আসনের ভোটারদের উদ্দেশে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বসা একটি ছবি সংযুক্ত করে দিয়েছেন। মিজানুর রহমান চৌধুরী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। এছাড়া, তিনি ছাতক উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান।
ভোলা-১ আসনে জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থ। তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পাওয়া জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর। দলীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে সোমবার (১২ জানুয়ারি) তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
ব্যতিক্রম সাইফুল আলম নীরব ও হাসান মামুন
ঢাকা-১২ আসনে জোটের প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তার আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। জানা গেছে, দলের হাই কমান্ড তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ করলেও তিনি এখনো সাড়া দেননি। কারণ, ৩০ ডিসেম্বর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। জানা গেছে, গত রোববার (১১ জানুয়ারি) বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন সাইফুল আলম নীরব। তারপরও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা না দিয়ে জোরেশোরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
জানতে চাইলে সাইফুল আলম নীরব সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি, জমাও দিয়েছি। আমি নির্বাচন করব। এলাকার জনগণ আমার পাশে আছে। আমার চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। উনার কাছে দোয়া চেয়েছি, উনি দোয়া করে দিয়েছেন।’
এদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নূরের আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন এখনো নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেননি।
জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সারাবাংলাকে বলেন, ‘দলের হাই কমান্ডের নির্দেশনায় অনেকে দলীয় প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরে দাড়াচ্ছেন। এখনো যারা মাঠে আছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। আশা করি সবাই সরে দাঁড়াবেন।