ঢাকা: বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপারের নকশা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দলটির দাবি, পরিকল্পিতভাবে এমনভাবে পোস্টাল ব্যালট ডিজাইন করা হয়েছে যাতে বিএনপির নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষ ভাঁজ পড়লে অস্পষ্ট হয়ে যায়, যা প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার খর্ব করার শামিল।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিএনপি গঠিত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট যারা ডিজাইন করেছেন তারা শুধু নৈতিক অন্যায়ই করেননি, বরং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পথ তৈরি করেছেন। এ কারণে বিএনপি কেবল ক্ষোভ বা প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি বিএনপির দীর্ঘদিনের। অনেক সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটের ভোট সংখ্যা পাঁচ থেকে সাত হাজার পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং এসব ভোট অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফল নির্ধারণে নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারে। অথচ প্রবাসীদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে প্রথম লাইনে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি ও হাতপাখা প্রতীক রাখা হয়েছে, কিন্তু বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ মাঝখানে এমনভাবে বসানো হয়েছে যে ব্যালট পেপার ভাঁজ করলে তা স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। এটি নিছক কাকতালীয় নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে বলেই বিএনপির ধারণা।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করে দাবি করেছে যে অক্ষরের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী প্রতীকগুলো সাজানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এটি অন্যভাবেও করা যেত। তাই কারা এই নকশা তৈরি করেছে এবং কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা জরুরি।’
বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোর প্রসঙ্গ তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বাহরাইন ও ওমানে জামায়াত নেতাদের বাসায় থাকা পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই বিতর্কিত হয়ে পড়বে।’
এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আগে কখনো এমন নজির দেখা যায়নি। বিএনপির আশঙ্কা, এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া এনআইডি তৈরি করে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে কিংবা বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট কেনা হতে পারে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও নির্বাচন কমিশন এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
এসব কর্মকাণ্ডকে অনৈতিক, বেআইনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বড় অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘নানা অজুহাতে বিএনপি প্রার্থীদের শোকজ করা হলেও সব দলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একই ধরনের আচরণ করছে না, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক সফর ছিল না; বরং ব্যক্তিগত সফর ছিল। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সেই ব্যক্তিগত সফরও স্থগিত করা হয়েছে, কারণ বিএনপি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন চায় এবং নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, অন্য দলগুলোর নেতারা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এই নির্লিপ্ততা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’
কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু থেকেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়বে।’