চাপাইনবাবগঞ্জ: বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশীদ বলেছেন, গত ৫ আগস্টের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আ.লীগের লোকেরা দিশাহীন, তাদের কোনো কর্মকাণ্ড নেই। আমি পুলিশ-প্রশাসনকে পরিষ্কার করে বলেছি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে যারা আ.লীগ করতো কিন্তু দুষ্কৃতকারী, যাদের নামে মামলা রয়েছে তাদের ছাড়া নিরীহ-নিরাপরাধ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া যাবে না। যদি মিথ্যা মামলা দেওয়াই লাগে, তাহলে আ.লীগ ও বিএনপির মধ্যে পার্থক্য কী?
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতে গরু আনতে গিয়ে সীমান্তে এক চোরাকারবারি নিহতের ঘটনায় এলাকার বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং আ.লীগ নেতাসহ নিরপরাধ মানুষের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক গুমের মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এই সভার আয়োজন করা হয়।
হারুনুর রশীদ বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে ফিরেই বলেছেন, আগামীর নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হবে। মানুষকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে গুম করা যাবে না, বিচারবহির্ভূত হত্যা করা যাবে না। নাশকতার মামলা দিয়ে বাড়ি ছাড়া করা যাবে না। এই বাংলাদেশ আর অতীতের মতো দেখতে চাই না। অপরাধ যেই করুক, যেই দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। সে বিএনপি হোক বা অন্য দলের হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকায় কয়েকদিন আগে ভারত থেকে গরু আনতে গিয়ে একজন মারা গেছে। তার সঙ্গে কারা ছিল, কে কে ছিল সেটি পুলিশ তদন্ত করেছে। কিন্তু এই ঘটনায় একটি গুমের মামলা করা হয়েছে। সেখানে আসামি করা হয়েছে সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের। ঘটনা জানার পর ওসিকে তদন্ত করে মামলা নেওয়ার জন্য বললেও তা করেননি।’
পুলিশের সমালোচনা করে সাবেক এই এমপি বলেন, ‘পুলিশ এখনো তাদের চরিত্র পরিবর্তন করতে পারেনি। তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে পুলিশ এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। সামনে ১২ তারিখ যদি নির্বাচন না হতো, আজকে যে ওসি একাজ করেছে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতাম। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, এই বাংলাদেশ আমরা দেখব না।’
তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য ছিলাম, সেসময় একাই সংসদে হাসিনার সামনে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলাম। বেনজীর ছিল একজন হত্যাকারী, র্যাবের ডিজি ও পুলিশের আইজি। তাকে দেখে গোটা বাংলাদেশ কাঁপতো। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও আলেম ওলামাদের হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছে বেনজীর। তার বিরুদ্ধে আমি সংসদে কথা বলেছি।’
এ সময় তিনি চরবাগডাঙ্গা এলাকার গরু চোরাচালানকারী গোলকাজুল ওরফে কাজল নিহতের ঘটনায় গুমের মামলা দায়েরের জন্য সদর থানার ওসি এবং জামায়াতকে দায়ী করেন। পরে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।
হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এই মামলায় নিরপরাধ রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতিহিংসার কারণে আসামি করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত অপরাধীরা বেরিয়ে আসবে।’ তদন্তের স্বার্থে বাদী ও সাক্ষীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক নেতা শাহনেওয়াজ খান সিনা, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম, টুটুল ইসলাম ও এনামুল হক, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল রেজা, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মেজর ডালিম, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেলসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা।