Thursday 15 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৮০টি আসন চায় ইসলামী আন্দোলন, ভেঙে যাচ্ছে জোট!

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৪ | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৮

ঢাকা: ৮০টি আসনে ছাড় না দিলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। গত এক সপ্তাহ ধরে জোটের শরিকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদেরকে ৮০ আসন না দিলে জোটে থাকা সম্ভব নয়।

এ পরিস্থিতিতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ছাড়া জোটের অন্য শরিকেরা আলাদাভাবে বৈঠক করেন। সেখান থেকে খেলাফত মজলিসের একাংশের আমির মাওনালা মামুনুল হক আবারও চরমোনাই পীরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আসন বণ্টন নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে তিনি ব্যর্থ হন। গভীর রাতে জামায়াতের একজন নেতাকে পুরো পরিস্থিতি অবহিত করেন মাওলানা মামুনুল হক। জোটের একাধিক শরিক ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে জোটে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় আসন বণ্টনের দ্বন্দ্বে জোট ভাঙলে বিকল্প নির্বাচনি কৌশল কী হবে– তা খুঁজছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এনসিপি এবং মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ অন্য দলগুলোকে নিয়ে জোট রক্ষার চেষ্টা চলছে।

ইসলামী আন্দোলন আভাস দিয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং জোটের অপর তিন ধর্মভিত্তিক দলকে নিয়ে নতুন জোট হতে পারে।

চরমোনাই পীরের দল জোটে না থাকলেও অন্য সব দল জোটে থাকছে বলে নিশ্চিত করেছেন শরিক দলের একাধিক নেতা। অর্থাৎ, ১১ দলীয় জোট এখন ১০ দলীয় জোট হতে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সারাবাংলাকে বলেন, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। এরপর গতকাল স্থগিত হওয়া সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। খেলাফত মজলিসের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জোটের অন্য শরিকেরা ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তিনি আরো জানান, নতুন করে কিছু আসনে বিন্যাস হতে পারে, তাতে কোনো সমস্যা হবে না।

জানা গেছে, ২৭৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। এনসিপির জন্য ৭, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জন্য ৮, খেলাফত মজলিসের জন্য ৪, বিডিপি ও এবি পার্টির জন্য দুটি করে আসনে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। এলডিপির জন্য একটি আসনে প্রার্থী দেয়নি।

মামুনুল হকের দলের জন্য যে ৮ আসনে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত, এর দুটিতে অন্য জোট সঙ্গীর প্রার্থী রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জোট ছাড়লে ছয়টি আসনে শেষ পর্যন্ত জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীই থাকবে না। এ বাস্তবতা ছাড়াও হেফাজতে ইসলাম যাতে প্রতিপক্ষ না হয়, সে জন্য মামুনুল হকের দলকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে জামায়াত।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর এক সিনিয়র নেতা বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সারাবাংলাকে বলেন, আমরা ৪৫টা আসন ছাড় দিতে চাচ্ছি। ইসলামী আন্দোলন ৭০ থেকে ৭৫টা চাচ্ছে।

তিনি বলেন, জোট ধরে রাখার এখনো চেষ্টা চলছে। বিকেলের মধ্যে একটা ফয়সালা হতে পারে।

এদিকে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ দুপুরে সাড়ে ১২টায় সারাবাংলাকে বলেন, এখনো জোট ভেঙে যায়নি। বিভিন্ন মিডিয়ায় যে নিউজ করা হচ্ছে এটা সঠিক নয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর