ঢাকা: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, নির্বাচনের আগে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে নতুন করে কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নেই। তবে তারা যদি আবার জোটে ফিরতে চায়, তাহলে সাদরে গ্রহণ করা হবে। আর যদি না আসে, তাহলে বর্তমানে জোটের জন্য নির্ধারিত ৪৭টি আসন জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি হবে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে গিয়ে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মামুনুল হক।
তিনি বলেন, ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে ইসলামী আন্দোলনের সরে যাওয়ার পেছনে তৃতীয় পক্ষের কোনো ইন্ধন নেই। বরং পারস্পরিক বোঝাপড়ার ঘাটতি থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ এতে ভোটের মাঠে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মামুনুল হক আরও বলেন, ‘শুরু থেকেই যে প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন করা হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকায় সমঝোতার ভিত্তিতে একই প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন হবে। যে আসনে যে দলের প্রার্থী সবচেয়ে শক্তিশালী বলে বিবেচিত হবে, তাকেই একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।’
চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো ষড়যন্ত্র আছে বলে মনে হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত সবাই একসঙ্গে নির্বাচন করতে না পারাকে আমাদের নিজেদের ব্যর্থতাই বলা যায়।’
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না— ইসলামী আন্দোলনের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ‘জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের মূল অর্থ হলো, বর্তমানে যে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় দেশ চলছে, তার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় এক দফায় বা হঠাৎ এক দিনেই শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এটিই মূলত বলা হয়েছে এবং এতে কোনো অসংগতি নেই।’