চট্টগ্রাম ব্যুরো: জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট থেকে সরে আসায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও দলটির আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বলেছেন, আলহামদুলিল্লাহ! জামায়াতের খপ্পড় থেকে বের হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে রাজনৈতিক পথচলা তৈরি করতে পারায় বিশেষ মুবারকবাদ জানাই।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে হেফাজতে ইসলামের আমিরের এ বিবৃতির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী আমিরের সই করা এ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন।
বিবৃতিতে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ‘নির্বাচনের আগ মূহুর্তে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা বিধ্বংসী মওদুদীবাদী জামায়াতের জোট থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাইকে আন্তরিক মুবারকবাদ জানাই। আমরা হেফাজতের পক্ষ থেকে ৫ আগস্ট পরিবর্তিত বাংলাদেশে সহীহ আকীদা বিশ্বাসী ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে ইসলামপন্থীদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেছি। মওদুদীবাদী জামায়াতকে বাদ দিয়ে এক হওয়ার আহ্বান করেছি। ঈমান, আকীদা বাদ দিয়ে কারও সঙ্গে জোট না করতে সতর্ক করেছি।’
‘আলহামদুলিল্লাহ! মওদুদিবাদীদ জামায়াতের খপ্পর থেকে বের হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে রাজনৈতিক পথচলা তৈরি করতে পারায় বিশেষ মুবারকবাদ জানাই। ইসলামী রাজনীতিতে হকপন্থীদের একক পথচলা খুবই প্রয়োজনীয় ছিল। ইসলামপন্থী রাজনীতির জন্য এই পথচলা আগামীতে ভালো অবস্থা তৈরি করবে ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে থাকার কারণে এ দেশের ইসলামপন্থার বড় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পীর সাহেব চরমোনাইর একক পথচলার সিদ্ধান্ত সেই ক্ষতির পথ অনেকটাই বন্ধ করবে বলেই আমি মনে করি, ইনশাআল্লাহ। এই সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারায় ইসলামী আন্দোলনের আমির এবং এই দলকে বিশেষ মুবারকবাদ জানাই।’
অতীতের মতো হেফাজতে ইসলাম নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না জানিয়ে আমির বলেন, ‘যারা নিরেট ইসলামপন্থাকে ধারণ করে জনগণ তাদেরকেই ভোট দেবেন বলে আমি আশাবাদী। যারা ইসলামের নামে মওদুদীবাদ এবং বিভিন্ন ভ্রান্ত আকিদা পোষণ করে তাদের আগামী নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে আগামী নির্বাচনে উলামায়ে দেওবন্দ তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সকল অনুসারী একইসঙ্গে পথ চলবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন মিলে ১১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনি ঐক্য গড়ে তুললেও আসন নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় সম্প্রতি ইসলামী আন্দোলন জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে।