ঢাকা: দীর্ঘ সময় পর নিজের নানাবাড়ির জেলা ফেনীতে আয়োজিত বিশাল এক নির্বাচনি জনসভায় আবেগঘন ও কৌশলী বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সঙ্গে নিজের পারিবারিক ও আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আসন্ন নির্বাচনে এই অঞ্চলের প্রতিটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে তিনি এই আবদার ব্যক্ত করেন।
জনসভার শুরুতে তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সালাম বিনিময় করেন এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে নিজের আবেগের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ফেনীর জনতাকে ‘আপনজন’ হিসেবে সম্বোধন করেন। তিনি বলেন, ফেনী তথা বৃহত্তর নোয়াখালীর সঙ্গে তার নিবিড় আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে কারণ এই মাটি তার নানাবাড়ি। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘জনগণের যেমন বিএনপির কাছে প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি বিএনপিরও জনগণের কাছে কিছু দাবি করার অধিকার আছে। সেই দাবিটি হলো- আসন্ন নির্বাচনে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার প্রতিটি আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা।’
অঞ্চলের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্থানীয় নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতে ফেনীতে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং শিল্পায়নের জন্য ইপিজেড স্থাপন করা হবে। তবে তিনি কেবল বড় বড় অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক অভিনব পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমানের আমলের ‘পল্লী চিকিৎসক’ মডেলের আদলে সারাদেশে ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগ দেওয়া হবে। এই স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেবেন, যাতে সাধারণ রোগের জন্য কাউকে দূরবর্তী হাসপাতালে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে না হয়।”

ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছানোর পর মাগরিবের নামাজ আদায় করে মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। এর আগে তিনি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন। ফেনীর এই সমাবেশটি ছিল গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে শুরু হওয়া তার দ্বিতীয় দফার দেশব্যাপী প্রচারণার অংশ।
ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের এক বিশাল বহর উপস্থিত ছিল। মোহাম্মদ শাহজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন ফারুক ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির মতো কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন এবং তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।
ফেনীর কর্মসূচি শেষে তারেক রহমানের পরবর্তী গন্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে সোয়াগাজী, দাউদকান্দি এবং সবশেষে নারায়ণগঞ্জের বালুর মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের পারিবারিক সংযোগকে ব্যবহার করে বৃহত্তর নোয়াখালীর ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার এই কৌশল নির্বাচনে বিএনপির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।