ঢাকা: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা যে কূটনৈতিক রীতিনীতিবিরোধী মন্তব্য করেছেন তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং একটি বৈধ ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পররাষ্ট্র নীতিমালার লঙ্ঘন। বিশেষ করে একজন সাবেক কূটনীতিক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তথ্যবিকৃত ও রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। একটি দেশের জনগণ কাকে ভোট দেবে এবং কাকে ভোট দেবে না তা সম্পূর্ণ সেই দেশের জনগণেরই এখতিয়ার। কোন রাজনৈতিক দল কী পরিমাণ জনসমর্থন পাবে তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদের নেই। বাংলাদেশের জনগণই এ দেশের মালিক এবং তারাই নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন কীভাবে হবে কিংবা কোন দল কত ভোট পাবে এ ধরনের মন্তব্য করে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘যদি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হয় এবং কারচুপি হয়, তাহলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারে। নাহলে তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা কম। দলটির ভোটের হার পাঁচ থেকে সাত শতাংশ, তাও আবার অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তায়।’