ঢাকা: পরীক্ষিত নেতৃত্ব হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকায় সুবাস্তু নজর ভ্যালির উল্টো দিকে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি প্রচার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল অতীত। সেই উজ্জ্বল অতীতের রূপকার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্ভিক্ষ ও শৃঙ্খলাহীন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে যায় এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়।’
তিনি বলেন, ঠিক একইভাবে বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন দেশ ছিল চরম অস্থিরতার মধ্যে। তার নেতৃত্বে দেশে শৃঙ্খলা ফিরে আসে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর হয়।
তবে এখনো দেশে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র ফিরে আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচালের চেষ্টা করছে।
এই বাস্তবতায় শহিদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, তারেক রহমান জনগণের আস্থার প্রতীক। দেশের মানুষ ইতোমধ্যেই প্রমাণ দিয়েছে, তিনি যখন দেশে আসেন তখন কোটি কোটি মানুষ তাকে স্বাগত জানায়। এটি তার প্রতি জনগণের গভীর বিশ্বাস ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
বর্তমান অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা ও পররাষ্ট্রনীতিকে ঢেলে সাজাতে তারেক রহমানের সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এমন পরিষ্কার ও সমন্বিত পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে সবসময় সহনশীলতা ও গণতন্ত্রের চর্চা করে এলেও একটি পক্ষ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি নিম্ন আয়ের মানুষদের ভোট নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিকাশ নম্বর সংগ্রহের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আবদুস সালাম বলেন, ভোট কোনো কেনাবেচার পণ্য নয়। এটি মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। অতীতেও এ ধরনের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে।
দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ কোনোভাবেই এই অধিকার নষ্ট হতে দেবে না। ভোট একটি আমানত, যোগ্য প্রার্থী বিবেচনা করেই ভোট দিতে হবে।
ধর্মের নামে ঘুষ দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা একদিকে আল্লাহর আইনের কথা বলে, অন্যদিকে ঘুষ দিয়ে ভোট নিতে চায়, তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি ধর্ম ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে যুবক, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও নারী সমাজের জন্য কী করা হবে; সবকিছু সেখানে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্য দলগুলো এখনো জাতির সামনে তাদের পরিকল্পনা পরিষ্কার করতে পারেনি; তারা শুধু বিএনপিকে ঠেকানোর রাজনীতিতে ব্যস্ত।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারলেই নির্বাচনে সাফল্য নিশ্চিত হবে। ঘুষ বা বিকাশ দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না। এই নির্বাচনে মানুষ দলবেঁধে ভোট দিতে আসবে। দুই-চার-পাঁচটি ভোট দিয়ে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা যাবে না এবং কোনো ষড়যন্ত্র করেও বিএনপিকে ঠেকানো যাবে না।
এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নাজিম উদ্দিন আলমসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।