Monday 26 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘এমপি প্রার্থীর ওপর হামলা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি করে’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৭

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম

ঢাকা: ঢাকা-১৮ আসনের জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একজন এমপি প্রার্থীর ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে দলীয় কোন্দল, চাঁদাবাজি ও সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির অবাধ্য সন্ত্রাসীদের হাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, দলীয় কর্মী, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।’

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় বিএনএস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সহিংসতায় রূপ দেওয়া গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মারাত্মক হুমকি উল্লেখ করে তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি তিনি জোর আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে তিনি দুটি দাবি উত্থাপন করে বলেন, ‘১. হামলার নেতৃত্বদানকারী দিদার মোল্লাকে সাংগঠনিক সকল দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। ২. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক দিদার মোল্লাসহ সকল হামলাকারীকে গ্রেফতার করতে হবে।’

এ ছাড়াও, এই ঘটনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে যথাযথ তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ২২ তারিখ প্রচার শুরুর পর চারদিনে বিভিন্ন ব্যতিক্রমি কর্মসূচির মাধ্যমে এনসিপি জনমনে জায়গা করে নিচ্ছিল এবং এনসিপির প্রতিটা মিছিল ছোট অবস্থায় শুরু হয়ে গণমিছিলে রূপ নিচ্ছিল। এ অবস্থায় ভীত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা এই ন্যাক্কারজনক হামলা করে।

তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে আহ্বান করেন সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করে জনতার কাতারে এসে ভোটের রাজনীতি করতে।

শেষে আরিফুল ইসলাম দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সহিংসতা ও সন্ত্রাসের রাজনীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমেই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় খিলক্ষেত পূর্ব থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির মিখাইল হোসেন বলেন, সকাল আনুমানিক ৯টায় রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন ডুমনী নূরপাড়া এলাকায় ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় স্থানীয় নূরপাড়া আলীম মাদরাসায় অভিভাবক সমাবেশ দেখে তারা মাদরাসা পরিদর্শন ও সৌজন্য সাক্ষাত করেন। তখন স্থানীয় ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দিদার মোল্লার নেতৃত্বে সেলিম মিয়া, মো. ইসরাফিল, মো. নাহিদ, রানা আহমেদসহ একদল সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়। এ সময় দীদার মোল্লা অন্যান্য হামলাকারীদের ‘কেউ যেন বেচে ফিরতে না পারে’ জাতীয় নির্দেশ দেয়।

হামলায় নূরপাড়া আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরকতউল্লাহ, তার বড় ভাই হেদায়েতুল্লাহসহ মোট ১২ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—বরকতউল্লাহ, হেদায়েতুল্লাহ, আলমগীর হোসেন, রিয়াজুল হোসেন, মাসুম আলম, আজিম হোসেন, ইউনুস মিয়া, শাব্বির ও বাবলু।

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তার নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে জোটের নেতাকর্মীদের নির্বাচনি প্রচারে নিয়মিতভাবে বাধা দিয়ে আসছে। গত দুই দিনের মধ্যেই আবদুল্লাহপুরে একজন জামায়াত কর্মীর ওপর হামলা করে গুরুতর আহত করা, খিলক্ষেত বরুয়া এলাকায় নির্বাচনি অফিস উদ্বোধনের সময় মব সৃষ্টি করে বাধা দেয়, তুরাগের বামনারটেকে নির্বাচনি অফিসের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং নিকুঞ্জ এলাকায় মহিলা জামায়াত কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনার সৃষ্টি করা হয়েছে।

এই বিষয়ে রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তার পরদিনই এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর