Tuesday 27 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চা’য়ের দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৯ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৮

ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সাধারণ চা খাওয়ার দাওয়াতকেও এখন হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, কোথাও কিছু হলেই দোষ চাপানোর জন্য একটি নামই যথেষ্ট, মির্জা আব্বাস।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগের গুলবাগ এলাকায় নির্বাচনি প্রচারকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘তিনি কারও কথায় ভীত নন, তবে অকারণে ফাঁদে পা দেওয়ার মানুষও নন।’ তিনি বলেন, ‘ভোট চাইতে হলে এলাকার মানুষের কাছে কাজের হিসাব দিতে হয়। কে কী করেছে আর ভবিষ্যতে কী করবে, সেটাই জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।’ ইচ্ছাকৃতভাবে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করলে তিনি তাতে সাড়া দেবেন না বলেও মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস জানা, তিনি অল্প বয়স থেকেই ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয়। শহরজুড়ে তার বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই পথচলায় তিনি বহুবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং কখনোই এলাকাবাসীর কাছে অধরা ছিলেন না। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এই এলাকার মানুষই তাকে সমর্থন দিয়েছে, পুলিশি হামলার মুখে তিনি বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছেন, এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

প্রচারের অংশ হিসেবে তিনি মৌচাক মোড়, মালিবাগ মোড় ও রাজারবাগ পুলিশ গেট পর্যন্ত গণসংযোগ করেন। পরে বিকেলে ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের সময় কিছু ‘অতিথি পাখি’ এলাকায় দেখা যায়, যারা ভোটের পর আর খোঁজ রাখে না।” তিনি দাবি করেন, ১৯৯১ সাল থেকে তিনি নিয়মিত নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং কেউ বলতে পারবে না যে, প্রয়োজনে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, বহুবার সংসদ সদস্য থাকার পরও কেউ তার কাছে এসে খালি হাতে ফেরেনি। তবে যা করা সম্ভব নয়, সে ধরনের মিথ্যা আশ্বাস তিনি কখনো দেননি।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মির্জা আব্বাস জানান, তিনি নিজেকে ফেরেশতা দাবি করেন না, কিন্তু কাউকে ক্ষতি করার জন্য মিথ্যা বলার রাজনীতিও তিনি করেন না। জেলে থাকার সময়ও এলাকার মানুষ নানা প্রয়োজনে তার বাসায় গিয়েছে এবং তার স্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাধ্যমতো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন কিছু নতুন মুখ বড় বড় কথা বলছে। তারা কয়জনকে বাস্তবে সাহায্য করেছে, এলাকার কতজনের জানাজা বা বিয়েতে অংশ নিয়েছে,সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যারা অন্যদের লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে তারাই জড়িত।’ প্রকৃত চাঁদাবাজদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখে জনগণই তাদের লাল কার্ড দেখাবে।’

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অশান্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে দাবি করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এমন একটি ভাব সৃষ্টি করা হচ্ছে, যেন বিএনপি ক্ষমতায় রয়েছে এবং তাদেরও একইভাবে তাড়ানো হবে। কিন্তু বিএনপি কোনো বানের জলে ভেসে আসা দল নয়।’ সবকিছুতেই বিএনপিকে দায়ী করার এই প্রবণতা দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সারাবাংলা/এফএন/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর