Tuesday 27 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ময়মনসিংহে তারেক রহমান
ভোটকেন্দ্রের সামনেই থাকবেন, কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিতে হবে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৩

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ময়মনসিংহ: ভোট দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসলে চলবে না। ভোটকেন্দ্রের সামনেই থাকবেন, কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন। আল্লাহর কাছে রহমত চাইবেন। যাতে সারাদেশে ধানের শীষ জয়যুক্ত হতে পারে। অন্যান্য ধর্মের ভাইয়েরাও ভোরবেলা তাদের ধর্মীয় আচার পালন করবেন। এরপর মুসলমান ভাইয়েরা ফজরের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়াবেন।

তিনি আরও বলেন, ভোট শুরু হবে, সঙ্গে সঙ্গে ভোট দেওয়া শুরু করবেন। কিন্তু ভোট দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসলে চলবে না। কেন্দ্রে থাকতে হবে। কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিতে হবে। কেন এই কথা বললাম। কারণ বহু বছর হয়ে গেছে, আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। এর আগে আমাদের ভোট বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জন লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এবার সেই জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে। যাতে কেউ আমাদের ভোট লুটপাঠ করে নিয়ে যেতে না পারে।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, নেত্রকোনা, শেরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক সমস্যা আছে। আমরা এ মাদক সমস্যার সমাধান করতে চাই। কিন্তু মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে কী ভাবে করবেন? মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে, আমাদেরকে সেই তরুণদেরকে, সেই যুবকদের, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষের যখন কাজ থাকবে, কর্ম থাকবে, চাকরি-বাকরি থাকবে, ব্যবসা বাণিজ্য কমবেশি থাকবে, তখন মানুষ এগুলোর মাঝে যাবে না। আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই।

‘আমরা চাই দেশে ভকেশনাল ইনস্টিটিউট বেশি করে তৈরি করব। যাতে করে আমরা আমাদের তরুণ সদস্যদেরকে যুব সমাজের সদস্যদেরকে, আমরা বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দিব। যেই ট্রেনিং এর বিনিময়ে তারা
বিদেশে যেমন যেতে পারবে, একই ভাবে তারা দেশের মাঝে তারা কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে। যারা আইটিতে কাজ করেন, তাদের জন্য বিভিন্ন রকম আইটি ট্রেনিং এর ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছি। যারা আইটিতে কাজ করেন, তারা ঘরে তাদের আয় রোজগার বাড়াতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘এই ৪ জেলার আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, মানুষের চিকিৎসা সমস্যা। আমরা ময়মনসিংহসহ আশেপাশের জেলা গুলোতে জেলা হাসপাতাল গুলোতে আরও বড় করতে চাই, একইভাবে হেলথ কেয়ারের এ্যাপয়েন্ট করতে চাই। শিশুরা এবং মা-বোনেরা চিকিৎসার জন্য অনেক সময় হাসপাতালে যেতে পারে না। আমরা চাই তার যেন ঘরে বসে চিকিৎসা পেতে পারে। সেজন্যই আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে চাই। আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থা ঘরের দ্বারে পৌঁছে দিতে চাই।’

‘এ ময়মনসিংহ জেলা অন্যতম কৃষি প্রধান জেলা। আমাদের এখানে অনেক খাল বিল ছিল। এ খাল বিলগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এ খাল বিলগুলো আমরা পুর্নখনন করতে চাই। এ খাল খনন করার জন্য কে কে কোদাল হাতে নিবেন। আমি সেদিন আপনাদের সঙ্গে থাকব।’

তিনি বলেন, যে কথা গুলো বললাম, যদি এই কাজ গুলো আমরা কমবেশি করতে সক্ষম হই, ইনশাল্লাহ ১২ তারিখে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে, এই যে কথা গুলো বললাম, এই কাজগুলো যদি করা হয়। আপনারা কি মনে করেন আপনারাসহ দেশের মানুষ উপকৃত হবে। উপস্থিত লোকজন তখন সমস্বরে হ্যাঁ মন্তব্য করেন।

এ সময় তিনি ২৪ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, এ ২৪ জনকে দায়িত্ব দিয়ে গেলাম এ ৪ জেলার উন্নয়নের জন্য। এদেরকে জিতিয়ে আনতে পারলে দেশের উন্নয়ণ করতে পারব।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কালাম, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আফজাল এইচ খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক নিলুফা চৌধুরী মনি প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর