ঢাকা: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৬-১৭ বছরে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে, এবার সেই পরিবর্তনের ধারাকে ধরে রেখে গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব জনগণের।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর ঈদগাঁও মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনে উত্তরার মানুষের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। এই অবদান ভবিষ্যতের ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।
তিনি বলেন, বহু ত্যাগ, রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা টিকিয়ে রাখতে হলে দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারকে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপে জনগণের কোনো লাভ নেই। বরং জনগণের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করাই সবচেয়ে জরুরি।
উত্তরার সমস্যা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, গ্যাস ও পানির সংকট এই এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও মানুষ সঠিক সেবা পাচ্ছে না। নতুন গ্যাস কূপ অনুসন্ধান বন্ধ থাকায় সারা দেশেই এই সংকট তীব্র হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নতুন গ্যাস কূপ অনুসন্ধান এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে বলে আশ্বাস দেন তারেক রহমান।
এ ছাড়া উত্তরার মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, রাজধানীর যানজট, মাদকের বিস্তার এবং বেকারত্ব-এই চারটি সমস্যাকে দেশের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সমন্বিত পরিকল্পনায় যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোরভাবে মাদক দমন করা হবে। পাশাপাশি তরুণ ও যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে জনগণের সমস্যার সমাধানে বিএনপির হাত আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার নির্বাচন।