চট্টগ্রাম ব্যুরো: দলীয় নির্বাচনি কার্যক্রমে জামায়াতে ইসলামীর নারীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের দুই প্রতিনিধিকে অবহিত করেছেন দলটির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তবে নারীরা বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে গিয়ে হামলা ও হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের সদস্য মার্সেল ন্যাগি ও এরিনি গোউনারি নগরীর দেওয়ানবাজারে নগর জামায়াতের কার্যালয়ে গিয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এতে নগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ছাড়াও সহকারী সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী শফিউল আলম এবং নগর মহিলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা খানম, সহকারী সম্পাদক আয়েশা পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদিকা শিরিন জাহান ও উম্মে ফাতেমা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা সার্বিক নির্বাচনি পরিবেশ, রাজনৈতিক দলগুলোর গণসংযোগ কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে জামায়াত নেতাদের কাছে জানতে চান। জবাবে নগর জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা দেশের আইন-কানুন ও নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের নারী জনশক্তিরাও এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারীরা হামলা, অবমাননা ও শারীরিক হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে।’
নারীদের নিরাপত্তার দাবিতে ও দেশব্যাপী তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী মহিলা মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রামেও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতের ৮ জন কর্মী আহত হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও আইন অনুযায়ী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’
বৈঠকে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা জামায়াতের নারী নেত্রীদের কাছে তাদের গণসংযোগ কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে জামায়াতের নারী নেত্রীরা বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গিয়ে আমরা জামায়াত প্রার্থী ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছি। ঘরে ঘরে গিয়ে নিয়মিত গণসংযোগ করছি। সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে, এই আশ্বাস দিচ্ছি।’