Wednesday 28 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৫ বছরে দেশের চেহারা পালটে যাবে: ডা. শফিকুর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৪

ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনি পথসভায় কথা বলছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চুরি, ডাকাতি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের চেহারা পালটে যাবে। আর যদি আবার কোনো অপশাসনের কবলে দেশ পড়ে, তাহলে আরও ৫০ বছরেও জাতির ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে (মিরপুর-কাফরুল) ‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে’র গণসংযোগ ও পথসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ী, ভিক্ষুক ও বাড়ির মালিকরা চাঁদাবাজির শিকার। দুনিয়ার সবাই চাঁদাবাজি করে জীবন চালায় না।’ জাতি মুক্তি চায় ও শান্তি চায় উল্লেখ করে জাতিকে আর না জ্বালাতে চাঁদাবাজদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সর্বত্র দুর্নীতি বিস্তারলাভ করেছে। পরিষেবা নিতে গেলে জায়গায় জায়গায় চাঁদা বা ঘুষ না দিলে কাজ হয় না। আমরা সমাজে ইনসাফ চাই, বিচার সবার জন্য সমান হবে। এখানে রাজা ও প্রজা বলে কোনো কথা নেই। প্রেসিডেন্ট থেকে ভ্যানচালক- সবাই এদেশের নাগরিক। অপরাধ করলে দেশের প্রেসিডেন্টও রেহাই পাবেন না। বিচার ঠিক না থাকার কারণে সমাজে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অপরাধ হচ্ছে, বিচার ঠিক থাকলে এসব হতো না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মায়েরা ঘরে, বাইরে ও কর্মস্থলে সব জায়গায় নিরাপত্তা পাবেন। শিশুদের রাস্তায় বাসচাপা দিয়ে মারার সুযোগ থাকবে না। কারণ, সবাই হবে দায়িত্বশীল নাগরিক। কেউ অপরাধ করে বাঁচতে পারবে না। বাধ্য হবে দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করতে।’

১২ ফেব্রুয়ারির ভোট বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এদিন দুটি ভোট, হ্যাঁ মানে আমরা ফ্যাসিবাদ চাই না। যারা চান না বাংলাদেশকে কোনো গোষ্ঠীর রাজ্যে পরিণত করা হোক, দেশ ১৮ কোটি মানুষের তারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। আমরা সবাই হ্যাঁ ভোট দেব। প্রতিবেশি, মা-বোন, আপনজন ও বন্ধু-বান্ধবদের উৎসাহিত করব।’

তিনি বলেন, ‘চব্বিশের ৫ আগস্টের পর যারা মামলাবাজি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি করেননি আগামী ১২ তারিখ জনগণ তাদেরকেই বেছে নেবে। জনগণ যাদের নির্বাচিত করবে তাদের প্রতি সবাইকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে, এটাই গণতন্ত্র। গায়ের জোরে নিজের পক্ষে রায় নেওয়া কখনই গণতন্ত্র হতে পারে না।’

ঢাকা-১৫ আসনের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপসোস! এই ১৫ আসনে বেহাল অবস্থা, রাস্তাঘাটের কিছু কিছু জায়গায় ভঙ্গুর অবস্থা, পচা ও খোলা ড্রেন, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসার অভাব, নিরাপত্তা, মাদক, সন্ত্রাস- এসব কিছু এখানে আছে।; জনগণ আস্থা রেখে সমর্থন দিলে প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দেন ডা. শফিকুর রহমান।

যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যুবকদের বেকারভাতা না দিয়ে তাদের হাতকে দক্ষ করে তোলা হবে।’ আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনার জন্য যুবকদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘সারা বিশ্বের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলব। কিন্তু কাউকে প্রভু হিসেবে মেনে নেবো না। জাতি কারও কাছে মাথা নত করবে না। ইনসাফের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ১৩ তারিখ মানুষ নতুন বাংলাদেশ দেখবে। সেদিন থেকে পুরাতন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কায়েম হবে না। নতুন ব্যবস্থা আনতেই হবে।’ ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় সমর্থন জানিয়ে ১২ তারিখ ভোটের হিসাব নিয়ে ঘরে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

নারীদের উপর হামলার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘মায়েদের নিয়ে আর যদি কোনো অপমানজনক আচরণ করা হয়, তাহলে মায়ের সন্তানেরা বিস্ফোরিত হবে। কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।’ হামলাকারীদের অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ ও ভুক্তভোগী মায়েদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার আহ্বানও জানান ডা. শফিকুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুর রহমান মূসা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি লস্কর মো. তসলিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর