Thursday 29 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত, মধ্যরাতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:৫২

শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত, মধ্যরাতে ঢাবিতে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: শেরপুরে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ডাকসু নেতারা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় ডাকসু নেতাদের নেতৃত্বে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে শুরু হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পথ প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে তারেক রহমানের উদ্দেশে ডাকসুর সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, “আপনি বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। আর আমরা দেশ জুড়ে দেখতে পেলাম আপনার নেতাকর্মীরা শুরু করেছে চাঁদাবাজি, আপনার নেতাকর্মীরা শুরু করেছে দখলদারি, শুরু করেছে দেশে নারীর ওপর ঘৃণ্য হামলা। আমরা জানি না এই নারীর ওপর হামলা ,চাঁদাবাজি, খুনাখুনি এগুলো আপনার প্ল্যান কি না! যদি প্ল্যান হয়ে থাকে তাহলে হাসিনার মতই পরিণতি বরণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান। আর যদি না হয়ে থাকে তাহলে আপনার নেতাকর্মীদের সামলান।’

বিজ্ঞাপন

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের আমরা যে আশা নিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম, তার সিকি পরিমাণ পূরণ করতে পারেন নাই। আমাদের যে সর্বশেষ আশা ছিল, একটা নিরাপদ পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়া, তাও করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হচ্ছেন। আপনারা একটা রাজনৈতিক দলের নেতাকেই নিরাপত্তা দিতে পারেন না, কীভাবে দেশের সাধারণ নাগরিককে নিরাপত্তা দিবেন। সময় থাকতে সাবধান হয়ে যান ইন্টেরিম।’

ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং খুনের মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।’

তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মঞ্চে মিষ্টি ও ফুলঝুরির মতো বক্তব্য শুনে মানুষ আর প্রভাবিত হয় না। যে পলিসির কথা বলে, নতুন প্ল্যানের কথা বলে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বরং, মানুষ কর্মের মাধ্যমে দেখতে চায় যে, একটি দল কী কাজ করতে পারে। আমরা সেটি আজকে শেরপুরে দেখেছি।’

বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি আপনারা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে চান তাহলে গণমানুষের যে আকাঙ্ক্ষার রাজনীতি সেই রাজনীতি করতে হবে। খুনের রাজনীতি, যেই রাজনীতির সূচনা করে গিয়েছে হাসিনা, সেটি যদি আপনারা করতে থাকেন তাহলে অবশ্যই এর জবাব বাংলাদেশের মানুষ ১২ তারিখে দেবে।’

প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনকে সফল করার জন্য যে দায়িত্ব আপনাদের ওপরে অর্পিত হয়েছে, এই দায়িত্ব আপনারা কতটুকু পালন করতে পারবেন, তা আজ শেরপুরের ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। যদি আপনারা নিরপেক্ষভাবে এর তদন্ত করে দোষীদেরকে বিচারের আওতায় আনতে না পারেন তাহলে আপনাদের পরিণতিও ভয়াবহ।’

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘গত দেড় বছরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত দল হচ্ছে বিএনপি।’ নিজেদের দলের ভেতরেই দুই শতাধিক মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘যাদের হাতে নিজেদের দলের লোক নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ কীভাবে নিরাপদ হবে?’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে ফিরে বিএনপিকে শৃঙ্খলায় আনবেন এমন আশাবাদ থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে, সারাদেশে নারী নির্যাতন, হামলা ও চাঁদাবাজি বেড়েছে।’ বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এখনো সময় আছে দল সংস্কার করুন, জুলাই বিপ্লব ও শহিদদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করুন। সেইসঙ্গে সন্ত্রাসী ও নারী হেনস্তাকারীদের বিচারের আওতায় আনুন।’

শেরপুরে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলায় জামায়াত নেতা রেজাউল ভাই নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।’ এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সাদিক কায়েম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে এবং সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জুলাই প্রজন্ম আরও শক্তভাবে রাজপথে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর