ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতোই বিএনপি হত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে দেবে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগকে যেভাবে বিদায় নিতে হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি এ দেশ থেকে সন্ত্রাসীদের বিদায় নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল পূর্বক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশব্যাপী নারীর প্রতি সংহিসতা ও হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে প্রমান করেছে তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়।
প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রার্থী ও প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে আব্দুল হালিম বলেন, প্রশাসনের নিরবতায় বিএনপি সন্ত্রাসীরা শেরপুর-৩ আসনের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, বিএনপি রাজনীতিতে একা হয়ে দিশেহারা। বর্তমানে রাজনীতির মাঠে দুটি পক্ষ; একদিকে ১১ দলীয় জোট অপরদিকে একলা বিএনপি। তাই জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের খুন করে, হত্যা করে জামায়াত-শিবিরকে দমিয়ে রাখা যাবে না। জামায়াতে ইসলামী কখনো হত্যা-খুনের রাজনীতি করেনি, করবেও না। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে বিএনপির সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জবাব জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে দেবে। ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রতিটি লাশের হিসাব জাতি ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে বুঝে নেবে।
নারীর প্রতি সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না ঘোষণা দিয়ে তিনি বিএনপিকে সহিংসতা পরিহার করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসেন হেলাল বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপির সন্ত্রাসীরা কীভাবে হামলা করল এবং কেন করল এর জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। নির্বাচনি আইনে এ জাতীয় ঘটনার জন্য দায়ী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার বিধান আছে কিন্তু কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসীদের আটক না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের জবাব দেবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি (ঢাকা-৫ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এমপি প্রার্থী) মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান, ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান, ঢাকা-৪ আসনে প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগর, কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর গিয়ে শেষ হয়। এ সময় কয়েক হাজার বিক্ষিপ্ত জনতা অংশ নেয়।