Thursday 29 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শেরপুরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, সুষ্ঠু তদন্ত চায় বিএনপি: মাহদী আমিন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৯ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৯

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

ঢাকা: শেরপুরে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সংঘাত এড়ানো সম্ভব ছিল কি-না, কারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে এবং কেন প্রশাসন সময়মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। এসব বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন জানান, স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুরে সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য নির্ধারিত আসন ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের শুরুতেই জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সব চেয়ার দখল করে নেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্ধারিত আসনে বসতে বাধা দেন। প্রশাসনের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তারা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ যে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা করেছিল, শেরপুরের ঘটনা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। তার ভাষায়, অবাধ নির্বাচন হলে জনগণের রায়েই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে—এ বিষয়ে দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাস রয়েছে। সে কারণেই নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ ও বিতর্কমুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করা বিএনপির জন্য যেমন জরুরি, তেমনি দেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেরপুরের ঘটনার প্রসঙ্গে মাহদী আমিন আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জামায়াতের প্রার্থীকে পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও অনুরোধ করেছিলেন নির্দিষ্ট রাস্তা দিয়ে না যেতে। কিন্তু তিনি সে অনুরোধ উপেক্ষা করে ওই পথেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং তাকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘জান যায় যাক’। এ ধরনের আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এই সংঘর্ষে একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি যে দলেরই হোন না কেন, একটি প্রাণহানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এছাড়া বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ও আহত সবাই একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংঘাতমুক্ত নির্বাচনই প্রত্যাশা করেছিলেন,এ কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাহদী আমিন বলেন, কীভাবে সংঘাতের সূচনা হলো, কারা এতে মদদ দিয়েছে এবং কেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলো, এসব বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যেন উসকানি না দেন এবং কোনো উসকানিতে পা না দেন। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, শেরপুরের ঘটনার মতো পরিস্থিতি যেন দেশের আর কোথাও না ঘটে, সে জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাম্প্রতিক মিছিল ও বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, দোষারোপের রাজনীতিতে নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জুবায়ের বাবু।

সারাবাংলা/এফএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর