ঢাকা: বিশিষ্ট কওমি আলেম মুফতি আব্দুর রহমান রাহমানী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ কার্যালয়ে এসে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।
এসময় মুফতি আব্দুর রহমান রাহমানীকে বরণ করে নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, মহানগরী দক্ষিণের ওলামা বিভাগের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসেন, মুফতি নুরুজ্জামান নোমানীসহ মহানগরীর নেতৃবৃন্দ।
জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করে মুফতি আব্দুর রহমান রাহমানী বলেন, তিনি ইতোপূর্বে কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে তিনি দ্বীন কায়েমের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চিন্তা করছেন এমন একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন যেখানে দ্বীন কায়েমের আন্দোলনে নিজেকে শামিল করা যাবে। সেজন্য তিনি মুফতি নুরুজ্জামান নোমানীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের চিন্তাভাবনা ও বাস্তবতার আলোকে বুঝতে পারছেন জামায়াতে ইসলামী এমন একটি সংগঠন যেখানে হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী একে-অপরের ব্যাথায় ব্যথিত হতে হয়। যেটি জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে বিদ্যমান।
তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসা আঙ্গনে যেই সংগঠনগুলো আছে সেগুলো অনেকটা ভূঁইফোড় সংগঠনের মতো। তারা বিষয় ভিত্তিক একটা আন্দোলন করে কিন্তু তাদের কোনো ভিত্তি আমি পাইনি। কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একজন মানুষ আহত হলে বা অসুস্থ হলে তার খোঁজ-খবর নেওয়া হয় না। যেখানে কাজ করার জায়গা অনেক সংর্কীণ। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীতে কাজ করার প্রচুর জায়গা রয়েছে। অনেকটা বলা যায় জামায়াতে ইসলামী কাজের সমুদ্র। এখান থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম জামায়াতে ইসলামীতে গেলে ভালো কাজ করার সুযোগ পাবো। তাই আমি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত হয়েছি।
মুফতি আব্দুর রহমান বলেন, এদেশে ইসলামের জন্য মানুষ যেভাবে আকৃষ্ট হয়েছে বিগত ৫৪ বছরে মানুষের মাঝে সেই আগ্রহ দেখা যায়নি। তিনি দীর্ঘ একটা সময় কওমি মাদ্রাসা নিয়ে কাজ করেছেন। ঢাকায় তার ৩০ এর অধিক ছাত্র বর্তমানে বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এবং অনেকেই শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি তার ছাত্র ও শুভাকাঙ্খীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানে কেউ কষ্ট নিবেন না। আমি কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের সেবা করতে ও দ্বীন কায়েমের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছি। আপনারাও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য জামায়াতে ইসলামীতে সম্পৃক্ত হতে পারেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বলেন, জামায়াতে ইসলামী অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতো কেবলমাত্র গতানুগতিক একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং জামায়াতে ইসলামী মানুষের কল্যাণে নিবেদিত একটি মানবিক সংগঠন। জামায়াতে ইসলামী ৪ দফা ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যার মধ্যে অত্যতম একটি দফা হচ্ছে সমাজ সংস্কার ও সমাজ সেবা। জামায়াতে ইসলামী দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমাজের প্রয়োজনে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি সমাজে মানুষ হিসেবে আমরা সকলেই এক এবং অভিন্ন।
জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার নিয়ে তিনি বলেন, ইসলামের চির দুশমনেরা জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়েছে এবং এখনো চালাতে চেষ্টা করছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে অপপ্রচারকারীদের প্রচারণা মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ আজ জামায়াতে ইসলামীর দিকে ছুঁটে আসছে। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে দেশ, জাতি, মানুষ ও ইসলামের জন্য জামায়াতে ইসলামী নিরাপদ ও বিশ্বস্ত ঠিকানা।