ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, বোরকা ব্যবহার করে যদি কেউ ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, “বোরকা আমরা শ্রদ্ধা করি। আমার মা বোরকা পরতেন। কিন্তু বোরকা পরে জাল ভোট দিতে এলে আমরা তা সহ্য করব না।”
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনে আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারে হজ অ্যাজেন্সি, রিক্রুটিং অ্যাজেন্সি ও ট্রাভেল অ্যাজেন্সির মালিকদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
দেশ ও জাতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, দেশ একটি অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ‘ভালো আছি না, খারাপ আছি—এটি একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। তবে আমার ব্যাখ্যা হলো, হাসিনার সময় আমরা যে অবস্থায় ছিলাম, এখন সে অবস্থায় নেই। পুলিশ এখন আর আগের মতো উপদ্রব করে না, তবে অন্য দিক থেকে আমরা এখনো ভালো নেই,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ স্বস্তি ও শান্তিতে নেই, বরং অস্বস্তির মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে।
বহু যুদ্ধ, রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে জনগণ এই নির্বাচন অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যেমন দান নয়, তেমনি ভোটের অধিকারও সংগ্রামের ফল।”
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, বয়স মানেই অচল হয়ে যাওয়া নয়। বরং অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য একটি বড় সম্পদ। অভিজ্ঞদের পরামর্শ কাজে লাগালে নতুন প্রজন্ম আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনীতিতে ভোট সংগ্রহকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সমাবেশ ও মিছিল করা সহজ, কিন্তু ভোটারদের বোঝানো এবং ভোট আদায় করাই আসল কাজ।”
ভোটের দিনে সম্ভাব্য অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি পুনরায় হুঁশিয়ারি দেন, বোরকা পরে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশে বিলম্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, “যদি ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ফল প্রকাশে দেরি হয়, তাহলে সেটি অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত হতে পারে।” এ কারণে ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পোলিং অ্যাজেন্টদের কেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের দিন জনগণ একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও পরিষ্কার নির্বাচন উপহার দেবে। নির্বাচনের পর ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনে তা সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।