ঢাকা: ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন ও সংগ্রাম করে আসলেও যারা কখনোই সংস্কারের কথা বলেনি, আজ তারাই বড় বড় সংস্কারবাদের কথা বলছে, এটি বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, সংস্কারের জনক, ধারক ও বাহক বিএনপিকে নিয়ে তথাকথিত নব্য সংস্কারবাদীরা বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। অথচ বিএনপি বিশ্বাস করে, জনগণের ক্ষমতায়ন ও ভোটাধিকারের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে এসেছে। ২০১৬ সালে দলটি জাতির সামনে ভিশন-২০৩০ উপস্থাপন করে। পরে ২০২২ সালে ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালে আরও বিস্তৃতভাবে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব বিএনপিই সর্বপ্রথম সামনে এনেছে।
তিনি আরও বলেন, এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই বিএনপি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, যা দলের শীর্ষ নেতারা একাধিকবার ঘোষণা করেছেন।
নির্বাচনি কাজে বিএনসিসির ক্যাডেটদের মোতায়েনের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাহদী আমিন বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক ক্যাডেট বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের নির্বাচনি কাজে যুক্ত করা হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে বিএনসিসি ক্যাডেটদের মোতায়েন না করার অনুরোধ জানিয়েছে।
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তার নির্বাচনি সফরের অংশ হিসেবে বরিশাল ও ফরিদপুরে যাচ্ছেন। বরিশালে ও ফরিদপুরে পৃথক জনসভায় তিনি বক্তব্য দিবেন।
মাহদী আমিন বলেন, গত এক সপ্তাহে তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে অন্তত ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার প্রমাণ বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদী আমলে তৈরি মিথ্যা বয়ান পুনরায় ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গেও উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১৬টি সংস্থা থেকেই ৩৪ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক রয়েছে। কয়েকটি সংস্থার নেতৃত্বে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্য থাকার অভিযোগ তুলে তিনি পর্যবেক্ষকদের তালিকা যাচাই, সংখ্যা সীমিতকরণ এবং একটি কেন্দ্রে একাধিক পর্যবেক্ষক প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানান।