টাঙ্গাইল: যারা দুর্নীতিতে লিপ্ত আছে তাদেরকে আর নতুন করে দেখার সুযোগ নাই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান শফিকুর রহমান।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখ জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচন অতীতের মতো যেনতেন কোনো নির্বাচন নয়। এ নির্বাচন নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। প্রায় সাড়ে ১৪শ’ শহিদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন। এই নির্বাচন আন্দোলনে পঙ্গুত্ব বরণ করা ৩৪ হাজার আহতের নির্বাচন। এই নির্বাচন শহিদ পরিবারের হাহাকারের নির্বাচন। অতএব এই দৃষ্টিকোণ থেকে নির্বাচন করতে হবে। এই নির্বাচনে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ আমাদের হাতে এসেছে। আগামী ১২ তারিখ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এ জাতি আদায় করে ছাড়বে।
গণভোট সম্পর্কে জামায়াতের আমির বলেন, নির্বাচনে দুটি ভোট। প্রথম ভোট ‘হ্যা’ এর পক্ষে- ইনশাল্লাহ। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে। ‘না’ ভোট জিতলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামী। অনেকে ইতোপূর্বে ‘হ্যাঁ’-ও বলে নাই, ‘না’-ও বলে নাই। এখন হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলছেন, অভিনন্দন, মোবারকবাদ। ‘হ্যাঁ’ ভোটের সঙ্গে যারা থাকবে, তারা প্রমাণ করবে যে তারা চাঁদাবাজের সঙ্গে নাই, দুর্নীতির সঙ্গে নাই, মামলাবাজের সঙ্গে নাই, মা-বোনদের অপমানের সঙ্গে নাই। তারা আছে নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে, তারা আছে ২৪ এর আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে। আমরা সেই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় ভোটটা দেশ গড়ার ভোট। আগামীতে যারা সরকার চালিয়েছে তারা, যারা অতীতে ভালো মানুষ প্রমাণিত হয়েছে তারা। বারবার সুযোগ পেয়েও যারা দুর্নীতিতে বিভিন্নভাবে লিপ্ত হয়ে পরেছিল- তাদের নতুন করে আর দেখার কিছু নাই। এমনকি এখনো যারা দুর্নীতিতে লিপ্ত আছে তাদেরকে আর নতুন করে দেখার সুযোগ নাই।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা ১১টি দল একত্রিত হয়েছি। আমরা প্রত্যেকটি দল নিজেদের সম্মান মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে নিজের দলের পক্ষে আমরা সবাই খেটে ইনশাল্লাহ বিজয় আনব। অতীতে ৫৪ বছরে অনেক নির্বাচন হয়েছে, সরকারও গঠন হয়েছে। ভোটের আগে অনেকে অনেক ওয়াদা করেছে কিন্তু ভোটের পর ওয়াদা ওয়াদাই থেকে গেছে। যার কারণে সমাজে বৈষম্য দেখা দিয়েছিল, অপরাধ চরম মাত্রা ধারণ করেছিল, দুর্নীতি গোটা সমাজকে ডুবিয়ে দিয়েছিল।
‘এর বিরুদ্ধে আমাদের যুব সমাজ ফুঁসে উঠেছিল। তারা একটি মাত্র স্লোগান ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ দিয়ে পথে নেমেছিল। তারা বলেছিল, আমরা ন্যায় বিচার চাই, বাঁচার জন্য অধিকার চাই, শিশুর জন্য শিক্ষা চাই, যুবক-যুবতীর জন্য কাজ চাই, মা-বোনদের জন্য নিরাপত্তা চাই, ব্যবসায়ীদের জন্য শান্তিতে ব্যবসা করার অধিকার চাই, শ্রমিকের জন্য ন্যায্য বিনিময় চাই, কৃষকের জন্য জমিতে ফসল ফলানোর নিরাপদ ও উন্নত সরঞ্জাম চাই। এ সব চাওয়া কী তাদের অপরাধ ছিল?’
যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘যে যুবকরা বুক চিতিয়ে খালি হাতে মুক্তি আনতে পেরেছে, সেই যুবকরা ১২ তারিখেও বিজয় লাভ করবে। যুব সমাজ তোমরা আমাদের কাছে সেদিন মিছিল করে কারও কাছেই বলোনি আমাদের আগামীতে বেকার ভাতা দিতে হবে। আমাদের যুবকরা বেকার ভাতা চায় না। যুবকরা কাজের অধিকারের জন্য লড়াই করেছিল। আমরা কথা দিচ্ছি তোমাদের হাতকে শিক্ষা আর প্রশিক্ষণ দিয়ে ভরে দেব ইনশাল্লাহ।’
এ সময় জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান জেলার ৮টি আসনের দলীয় ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেন।
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে ওই নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবীর, এনসিপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লা হায়দারসহ জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের নেতা ও প্রার্থীরা।
এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে থাকেন দলের নেতাকর্মীরা। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা নানা স্লোগানে মুখর করে তোলেন পৌর উদ্যান এলাকা।