ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা দিল্লির তাঁবেদারি করে এসেছে বা নতুন করে করতে চায়, তাদের রাজনীতি বাংলাদেশে কখনই প্রতিষ্ঠিত হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনে আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জীবন দিয়েছি, আবারও জীবন দেব, তবুও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব। শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে না পারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতারই প্রমাণ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাভারের ঢাকা-১৯ আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী দিলশানা পারুলের পক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সাভারের নিউমার্কেট সংলগ্ন মাতৃবাগান জামে মসজিদ মাঠ প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। কিন্তু কারো লাশের ওপর দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ বাংলাদেশে আর কাউকে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, একটি দলের নেতা বাংলাদেশে এসে পরিবর্তনের কথা বলছেন, অথচ দেশে কোথায় সয়াবিন চাষ হয়, কোথায় ভুট্টা চাষ হয় সেটাও তিনি জানেন না। তাহলে তিনি কী ধরনের পরিবর্তন আনবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ ভোট দিয়ে ১১ দলীয় জোটকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাবে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন ও সংস্কার চায়। পাঁচ আগস্টের পর দেশের মানুষ আর কোনো জালিমবাজ শক্তিকে দেখতে চায় না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পাঁচ আগস্টের পর একটি গোষ্ঠী দেশে চাঁদাবাজি ও দখল-বাণিজ্য শুরু করেছে, আর ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ তাদেরই প্রত্যাখ্যান করবে।
সমাবেশে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী দিলশানা পারুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন, রাজনৈতিক সেক্রেটারি হাসান মাহাবুব মাস্টার এবং আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম।
এছাড়াও সমাবেশে জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও কয়েক শতাধিক ভোটার উপস্থিত ছিলেন।