ঢাকা: ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড’ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। দলটির ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছে, আধুনিক ও সমন্বিত বিমান পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রী চলাচল, কার্গো পরিবহন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারটি দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আলোকে প্রণয়ন করা হয়েছে।
ইশতেহারে বিমান পরিবহন খাত সম্পর্কে বলা হয়, জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিডের আওতায় প্রথম ধাপে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোকে এবং পর্যায়ক্রমে জেলা শহরগুলোকে সংযুক্ত করতে ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ যাত্রী ও লজিস্টিক হাবে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
এছাড়া কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমান কার্গো ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে একীভূত কার্গো ট্র্যাকিং, বুকিং ও রুট পরিকল্পনার জন্য ‘জাতীয় লজিস্টিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ চালুর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বিএনপি। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে বিমানবন্দরগুলোতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে।
ইশতেহারে দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপদ, সম্মানজনক ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে টিকিট কালোবাজারি, জালিয়াতি ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একটি লাভজনক ও প্রতিযোগিতাসক্ষম সংস্থায় পরিণত করতে এর পরিচালন কাঠামো, রুট ব্যবস্থাপনা এবং সেবার মানে কাঠামোগত সংস্কার আনার কথা জানানো হয়। আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বৃদ্ধি করা হবে বলেও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।
পাশাপাশি বেসরকারি এয়ারলাইনগুলোকে নীতিগত সহায়তা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। এভিয়েশন প্রযুক্তি ও কার্গো খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়।
এছাড়া দেশের এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং দেশীয় এভিয়েশন খাতে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বিএনপি।