ঢাকা: দলের নির্দেশ অমান্য করে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন বিএনপি তাদের বহিষ্কার করেছে। এরই মধ্যে একশ’র কাছাকাছি বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে দলটি। এর পর শুরু হয়েছে গড়হারে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বহিষ্কার। বহিষ্কার করা হচ্ছে দলের মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে কাজ না করে বিদ্রোহীদের সঙ্গে কাজে যোগ দেওয়াদেরও। কোথাও আবার মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে না থাকায় পুরো কমিটি বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় রাজনীতি সচেতন মানুষ প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন, বিএনপির এই বহিষ্কার নীতিতে আগামী নির্বাচনে দলটির লাভ না ক্ষতি হচ্ছে?
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ২৯১টি আসনে নিজস্ব প্রার্থী দেয়। আর আন্দোলন সংগ্রামে যারা বিএনপির সঙ্গে ছিল তাদের মধ্যে কয়েকটি দলের আটজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। সেসব আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কোনো আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে বিরত থাকেননি। তারা সবাই স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়ে গেছেন। যে ২৯১ আসনে বিএনপি তাদের নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে সেসব আসনের মধ্যে অন্তত ৭৮ টিতে মনোনয়নবঞ্চিতরা দাঁড়িয়ে গেছেন। এর সংখ্যা প্রথমে শতাধিক থাকলেও দলের চেয়ারম্যানের অনুরোধ কিছু প্রার্থী নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু ৭৮ আসনের অন্তত ৯২জন প্রার্থী দলের নির্দেশ কোনোক্রমেই মানতে রাজি হননি। ফলে দল সর্বশেষ হাতিয়ার ব্যবহার করে তাদের বহিষ্কার করেছে।
বহিষ্কারের পর ওইসব প্রার্থী নিজ নিজ অবস্থানে আরও শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তারা বলছেন, আমি এখন আর দলের কেউ না। সুতরাং, নির্বাচনের মাঠে থাকব শেষ দিন পর্যন্ত। তার অর্থ এই প্রার্থীরা আর মাঠ ছাড়বেন বলে মনে হয় না। সুতরাং, ওই আসনগুলোতে যেহেতু বিএনপির ভোট দুই ভাগ হবে সেহেতু প্রতিপক্ষ জামায়াতসহ ১১দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।
এদিকে প্রার্থীদের বহিষ্কারের পরও যখন তারা মাঠে রয়ে গেছেন তাদের অনুসরণ করে ওইসব আসনের বিএনপি নেতাকর্মীও এখন বহিষ্কার হচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে কতজন বহিষ্কার হয়েছেন তার হিসাব না থাকলেও এটা পাঁচ শতাধিক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আর মাত্র চারদিন বাকি। প্রতিদিনই কোনো না কোনো আসনের নেতাকর্মীরা বহিষ্কারের চিঠি পাচ্ছেন। ফলে বিএনপি ওইসব আসনে দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক চিঠিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাতিয়া পৌর বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা; পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলা বিএনপির কয়েজন, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতিসহ কয়েকজন; স্বরূপকাঠী পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান খোকনসহ বেশকয়েকজন ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সদস্য কায়ছার রিফতকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জানা গেছে, ময়মনসিংহে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ছাত্রদলের ১৫ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) জেলা উত্তর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নূরের পক্ষে কাজ না করে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিএনপি।
দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করায় গত ১ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলা বিএনপির ১৪ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাকে। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। এই ইকবালকে এরই মধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনসহ ২৬ নেতাকর্মীকে উপজেলা বিএনপির দলীয় পদসহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকেও বহিষ্কার করা হয়। ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ায় ৩১ জানুয়ারি বিএনপির ৩০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এই আসনে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স দলীয় প্রার্থী।
গত ২৫ জানুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশীদের পক্ষে কাজ করায় দলটির নয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। ৩১ জানুয়ারি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার ছাত্রদলের চার নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর অভিযোগে নোয়াখালীতে ২৯ জানুয়ারি বিএনপির ১৮ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। ২৬ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
দলীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় একদিনে ৫৯ জনকে বহিষ্কার করে বিএনপি। যদিও দলটি বলছে, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য তাদের দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মূলত এরা সবাই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজ নিজ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে বহিষ্কার হয়েছেন। এর আগে জোটের শরিকদের আসনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় দলের ১৩ জনকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
১ ফেব্রুয়ারি নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও নওগাঁ জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি মো. খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই দিন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সমিরণ দেওয়ান, নেত্রকোনা জেলাধীন আটপাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য আলী হায়দার কাঞ্চন ও এম জি শামীমকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
১ ফেব্রুয়ারি অপর এক চিঠিতে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ মোল্লাসহ বেশ কয়েকজনকে; কুমিল্লা উত্তর জেলার হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জহুর ও পাবনা জেলাধীন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আনিছুর রহমান লিটনকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। ৩১ জানুয়ারি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য মাসুম খানসহ বেশ কয়েকজনকে একই কারণে বহিষ্কার করা হয়।
একইদিন অপর এক চিঠিতে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. মো আবুল কালাম আজাদ, জেলা বিএনপির সদস্য ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঞ্জিল হোসেন পাটওয়ারীসহ বেশ কয়েকজনকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে গত ২১ জানুয়ারি একইদিনে ৫৯জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। তারা হলেন-
রংপুর বিভাগ
দিনাজপুর-২ আ ন ম বজলুর রশিদ দিনাজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিরল উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা। দিনাজপুর-৫ এ জেড বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম রেজয়ানুল হক, নীলফামারী-৪-এ সৈয়দপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ আরাফান সরকার রানা, নওগাঁ- ৩ মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নাটোর-১-এ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, নাটোর-১-এ জেলা বিএনপির সদস্য ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫-এ পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য খাইরুল হক শিমুল, লন্ডন জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, পাবনা-৩-এ বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৪-এ জেলা বিএনপির সদস্য জাকারিয়া পিন্টু।
খুলনা বিভাগ
কুষ্টিয়া-১ নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক দৌলতপুর উপজেলা বিএনপি, নড়াইল-২ মনিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি, যশোর-৫ অ্যাড. শহিদ ইকবাল, সভাপতি, মনিরামপুর থানা, সাতক্ষীরা-৩ ডা: শহীদুল আলম, সদস্য জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বাগেরহাট-১ ইঞ্জি. মাসুদ, সদস্য, জেলা বিএনপি, বাগেরহাট-৪ খায়রুজ্জামান শিপন, সদস্য, জেলা বিএনপি।
বরিশাল বিভাগ
বরিশাল-১ আব্দুস সোবহান, সদস্য জাতীয় নির্বাহী কমিটি, পিরোজপুর-২ মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন, প্রথমিক সদস্য।
ঢাকা বিভাগ
নারায়ণগঞ্জ-১ মোহাম্মাদ দুলাল হোসেন, সাবেক সদস্য নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি, নারায়ণগঞ্জ-২ মো. আতাউর রহমান খান আঙ্গুর – সাবেক সদস্য নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি, নারায়ণগঞ্জ-৩ অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম- সদস্য জাতীয় নিবার্হী কমিটি বিএনপি, টাঙ্গাইল-১ অ্যাড. মোহাম্মাদ আলী সদস্য জাতীয় নির্বাহী কমিটি বিএনপি, টাঙ্গাইল-৩ লুৎফর রহমান খান আজাদ, উপদেষ্টা চেয়ারপারসন, টাঙ্গাইল-৫ অ্যাড. ফরহাদ ইকবাল, সাধারন সম্পাদক টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি, নরসিংদী-৫ মো. জামাল আহমেদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি নরসিংদী জেলা বিএনপি, মুন্সিগঞ্জ-১ মো. মুমিন আলী, সদস্য মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপি, মুন্সিগঞ্জ-৩ মো. মহিউদ্দিন, সদস্য সচিব মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপি।
ময়মনসিংহ বিভাগ
কিশোরগঞ্জ-১ রেজাউল করিম চুন্নু, সদস্য কিশোরগঞ্জ সদর থানা, কিশোরগঞ্জ-৫ শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও সভাপতি বাজিতপুর উপজেলা বিএনপি, ময়মনসিংহ-১ সালমান ওমর রুবেল, যুগ্ম আহ্বায়ক, হালুয়া ঘাট উপজেলা বিএনপি, ময়মনসিংহ-১০ এবি সিদ্দিকুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি, ময়মনসিংহ-১১ মো. মোর্শেদ আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভালুকা উপজেলা বিএনপি, নেত্রকোনা-৩ মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, সদস্য, কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপি, শেরপুর-৩ মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ, সদস্য, সাবেক জেলা বিএনপি।
ফরিদপুর বিভাগ
মাদারিপুর-১ লাভলু সিদ্দিকী, যুগ্ন-আহবায়ক মাদারিপুর জেলা বিএনপি, মাদারিপুর-১ কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা, সদস্য, শিবচর উপজেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটি, মাদারিপুর-২ মিল্টন বৈদ্য, সদস্য মাদারিপুর জেলা বিএনপি, রাজবাড়ী-২ নাসিরুল হক সাবু, সদস্য জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি, গোপালগঞ্জ-২ এম এস খান মঞ্জু, সদস্য, জেলা বিএনপি, গোপালগঞ্জ-২ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সদস্য, জেলা বিএনপি, গোপালগঞ্জ-৩ অ্যাড. হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য, জেলা বিএনপি।
সিলেট বিভাগ
সুনামগঞ্জ-৩ আনোয়ার হোসেন, সাবেক সহ সভাপতি জেলা বিএনপি ও সদস্য, আহ্বায়ক কমিটি, সুনামগঞ্জ-৪ দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সাবেক সহ সভাপতি জেলা বিএনপি ও সদস্য, আহ্বায়ক কমিটি, সিলেট-৫ মামুনুর রশীদ (চাকসু), উপদেষ্টা (বহিস্কৃত) সিলেট জেলা বিএনপি, মৌলভীবাজার-৪ মহসিন মিয়া মধু, সদস্য, আহ্বায়ক কমিটি জেলা বিএনপি, হবিগঞ্জ-১ শেখ সুজাত মিয়া, সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি বিএনপি।
কুমিল্লা বিভাগ
ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-১ অ্যাড. কামরুজ্জামান মামুন, সহ-সভাপতি, জেলা বিএনপি, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-৫ কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপি, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-৬ কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল, সাধারণ সদস্য, কুমিল্লা-২ ইঞ্জি. আব্দুল মতিন, সাধারণ সদস্য, উপদেষ্টা, ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, কুমিল্লা-৭ আতিকুল আলম শাওন, সভাপতি, চান্দিনা উপজেলা বিএনপি, চাঁদপুর-৪ এম এ হান্নান, সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি।
চট্টগ্রাম বিভাগ
চট্টগ্রাম-১৪ অ্যাড. মিজানুল হক চৌধুরী, সাবেক সদস্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি, চট্টগ্রাম-১৪ শফিকুল ইসলাম রাহী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, চট্টগ্রাম-১৬ লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি, নোয়াখালী-২ কাজী মফিজুর রহমান, সদস্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি, নোয়াখালী-৬ প্রকৌশলী ফজলুল আজীম, সাবেক সংসদ সদস্য, নোয়াখালী-৬ ইঞ্জিনিয়ার তানবীর উদ্দীন রাজীব, সদস্য নোয়াখালী জেলা বিএনপি।
গত ২১ জানুয়ারি ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যোগাযোগ সম্পাদক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুবদল গঠিত বরিশাল-২ ও মাদারীপুর-২ আসনের প্রচার কমিটির সমন্বয়ক গিয়াস উদ্দিন মামুন সারাবাংলাকে বলেন, ‘এবারের নির্বাচনটা হলো সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন। ফলে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে দেশের বড় দল হিসেবে প্রতিটি আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু একটি আসনে একজনের বেশি মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। দল যাকে সবার চেয়ে বেশি যোগ্য মনে করেছে, যারা ত্যাগী নেতা তাদেরকেই মনোনয়ন দিয়েছে। এখন যারা মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তারা কখনো দলের জন্য মঙ্গলজনক নয়। তারা দলের ক্ষতি করছেন। সেজন্য তাদেরকে বহিষ্কার করে দল সঠিক কাজ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি দলের নীতি আদর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে যারা এ ধরণের কাজে লিপ্ত তাদেরকে আজীবনের জন্যই বহিষ্কার রাখা উচিত। এটা না করলে দলের চেইন অব কমাণ্ড ভেঙে পড়বে।’ বহিষ্কারের কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না জানিয়ে মামুন বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় দল। এই দল থেকে কিছু নেতাকর্মী বহিষ্কার করলে দলের ক্ষতি হবে না। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায়ও প্রভাব পড়বে না।’
নাটোর-১ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দফতর সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার আসনে আমাকে বহিষ্কার করেছে। তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছেন। তাদের এখনো কাউকে বহিষ্কার করেনি। তারপরও তারা আমার সঙ্গেই আছেন। এখানে কেউ বহিষ্কারের বিষয়টা ভাবছে না। আমি ইনশাআল্লাহ বিজয়ী হব।’
এই আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপির প্রয়াত কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমানের (পটল) মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুলকে। তার বিরুদ্ধে তার আপন ভাই মোহাম্মদ ইয়াসির আরশাদও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিল। পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এখন তাইফুল ইসলাম টিপু মাঠে রয়েছেন। তিনি শেষ পর্যন্ত থাকবেন এবং বিজয়ী হবেন বলে জানান।