ঢাকা: ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের নির্দেশনাকে ‘বিস্ময়কর’ ও ‘হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এমন নির্দেশনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন জোটের নেতারা। তারা জানান, ইসির এমন ‘সারপ্রাইজ ডিসিশন’ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জোটের একটি প্রতিনিধি দল এসব উদ্বেগের কথা জানায়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জোট নেতারা জানান, তীব্র আপত্তির মুখে ইসি ওই বিতর্কিত নির্দেশনা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছে।
এর আগে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসি এক নির্দেশনায় জানিয়েছিল, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নেওয়া যাবে না। ১১ দলীয় জোটের আপত্তির মুখে ইসি জানায়, তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। জোটের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এমন কোনো ‘সারপ্রাইজ ডিসিশন’ না নেওয়ার এবং নির্বাচনের দিন ইন্টারনেটের গতি না কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সেইসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয় এবং লাইভ কাভারেজের বিষয়ে যেন স্বচ্ছ নির্দেশনা থাকে, সে বিষয়ে জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের সময় ইন্টারনেট বন্ধ বা ফোন ব্যবহারের বিধিনিষেধ আমরা দেখেছি। নতুন বাংলাদেশে এমন কোনো সার্কুলার আমরা দেখতে চাই না যা ইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সিইসি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে এমন কিছু আর ঘটবে না।’
তিনি আরও বলেন,‘ আমরা চাই না নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হোক। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, যার দ্রুত সমাধান চাই।’