Tuesday 10 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

টাঙ্গাইলের ৩টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, মরিয়া জামায়াত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০১ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০৩

টাঙ্গাইলের বিভিন্ন আসনের প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীরা

টাঙ্গাইল: ঢাকা বিভাগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা টাঙ্গাইলের আটটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা সাতটি আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। জামায়াত ১১ দলীয় জোটের কারনে শরীক দল এনসিপিকে ছেড়ে দিয়েছে টাঙ্গাইল- ৪ (ঘাটাইল) আসন। দলীয় আর স্বতন্ত্র মিলে ৪২ জন প্রার্থী এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমীর টাঙ্গাইলে পৃথক নির্বাচনী জনসভা করেছেন। বড় দুই দলের জনসভা ভোটের মাঠে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। প্রচারের শেষ সময় পর্যন্ত প্রার্থীরা ব্যপক গনসংযোগ চালিয়েছেন। দিনরাত মানুষের কাছে ছুটে গিয়েছেন দিয়েছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। দুই একটা বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কোন সহিংস ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে এখনো পর্যন্ত স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

টাঙ্গাইল- ১ (মধুপুর-ধনবাড়ি): আসনে বিএনরি প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। এ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন এডভোকেট মোহাম্মদ আলী। প্রতীক বরাদ্দের পর তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। দলের প্রার্থীর প্রচারে অংশ নিয়েছেন তিনি। গত ৪ ফেব্রুয়ারি তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারনে ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন বিএনপির প্রার্থী। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। ফলে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দিতা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল -০২ ( গোপালপুর-ভুয়াপুর): এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। তিনি এর আগে এ আসনে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবেন বলে আশা করছেন তার কর্মী-সমর্থকেরা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. হুমায়ুন কবির ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এ আসনে বিএনপির সাথে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিদ্বন্দিতা হবে।

টাঙ্গাইল-০৩ (ঘাটাইল): এ আসনে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এসএম ওবায়দুল হক নাসির ও বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ। আজাদ ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছেন এনসিপির সাইফুল্লাহ হায়দার। মাঠে একাধিক প্রার্থী থাকলেও আলোচনায় রয়েছেন এই তিন প্রার্থী। বিএনপি তার হারানো আসনটি ফিরে পেতে মরিয়া বলে জানায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে জয়লাভ আওয়ামী লীগের ভোটের ওপর অনেকটা নির্ভর করছে বলে মনে করছেন অনেকে।

টাঙ্গাইল – ০৪ (কালিহাতী): কালিহাতী আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন। আর বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জাতীয়তাবাদি মুক্তিযোদ্ধা দলের সাবেক সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হালিম মিয়া। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। এ আসন থেকে একতরফা ও ভোটবিহীন নির্বাচনসহ পাঁচবার নির্বাচিত হন লতিফ সিদ্দিকী। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাজ্জার প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হালিম মিয়ার দাবি আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ভোটের মাঠে এবার তেমন সুবিধা করতে পারছেন না। আর বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নেই দলের একটি অংশ। এ অবস্থায় সুযোগ নিতে চায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী।

টাঙ্গাইল -০৫ (সদর): টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনকে জেলার সবচাইতে গুরুত্বপুর্ন আসন হিসেবে ধরা হয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তাকে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবেই মনে করছেন তার কর্মী-সমর্থকরা। অপরদিকে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা শাখার আমীর আহসান হাবিব মাসুদ। এ আসনে অবশেষে বিএনপির সাথে জামায়াতের মূল প্রতিদ্বন্দিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকে আবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের কথাও বলছেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, টাঙ্গাইলে নির্বাচনি জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে চরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি একটি বেড়িবাঁধ নির্মান, জেলাবাসীর জন্য আধুনিক হাসপাতাল ও করটিয়া সাদত কলেজকে বিশ্ববিদ্যায়ে রুপান্তর করাসহ নানা দাবি তুলে ধরেছি। বিএনপি সরকার গঠন করলে তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। এতে বিশাল চরাঞ্চলের মানুষকে আস্বস্থ হয়েছে। যা ভোটের মাঠে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে জামায়াতের প্রার্থী আহসান হাবিব মাসুদ জানান, তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন ভোটারদের কাছ থেকে। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার আশা করেন তিনি। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি এখনো পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক বলেও জানান তিনি।

টাঙ্গাইল- ০৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার): টাঙ্গাইল-৬ আসনকে বিএনপি অধ্যুষিত আসন বলে মনে করা হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন ১৯৭৯, ১৯৯১ সাল, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করে। ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক ছাত্রদল নেতা রবিউল আউয়াল লাভলু। আর জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন ডা. এ কে এম আব্দুল হামিদ। এ আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দিতা হবে বিএনপি-জামাতের মধ্যে।

টাঙ্গাইল -০৭ মির্জাপুর: এ আসনে বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী প্রার্থী হয়েছেন। তিনি এ আসন থেকে ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। নির্বাচনে এ দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দিতা হবে।

টাঙ্গাইল -৮ (বাসাইল-সখিপুর): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন নিয়ে নানা আলোচনার জন্ম হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তিনি ২০০১ সালে দলের মনোনয়ন পেলেও জয়লাভ করতে পারেননি। এবার আলোচনায় উঠে এসেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরের নাম। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা শফিকুল ইসলাম খান। এ আসনের সাবেক এমপি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমেছিলেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগের ভোটও স্বতন্ত্র প্রার্থী বাক্সে যাবে বলে মনে করছেন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা। নির্বাচনে প্রচার কাজে বাঁধা, অফিস ভাংচুর ও প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর