Wednesday 11 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চুয়াডাঙ্গা-২ আসন
বিএনপির দুর্গ মেরামতের টার্গেট, জামায়াতের ফেরার ডাক

রিফাত রহমান ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৭

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু ও জামায়াতের রুহুল আমিন। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

চুয়াডাঙ্গা: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভারত সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলা। এই জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম চিনিকল কমপ্লেক্স ঐতিহ্যবাহী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। এই প্রতিষ্ঠানটি জেলার প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী এই চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনের নির্বাচন। যদিও এরই মধ্যে নির্বাচনি প্রচার শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষা কেবল ভোটের। আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। আর এই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে এখন ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী চুয়াডাঙ্গায় সংসদীয় আসন দুটি। এর মধ্যে দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা এবং সদরের আংশিক নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসন। এখানে রয়েছে সদর উপজেলার চারটি, দামুড়হুদা উপজেলার আটটি এবং জীবননগর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন। সেইসঙ্গে রয়েছে দর্শনা ও জীবননগর পৌরসভা ও তিনটি থানা। এই আসনের ১৭৪টি কেন্দ্রে ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এখানকার বেশিরভাগ ভোটার কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। তবে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ও রেলওয়ে এবং স্থলশুল্ক স্টেশনসহ অন্যান্য শ্রমিকের সংখ্যাও কম নয়। দেশ স্বাধীনের পর থেকে ভারতবিরোধী মানসিকতার ভোটাররা ভারতের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দলগুলোকে পারতপক্ষে ভোট দেয়নি। এই আসন থেকে ১৯৮৬ সালে জনতা মুক্তি পার্টি থেকে মীর্জা সুলতানা রাজা, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান হবি, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মাওলানা হাবিবুবর রহমান। এ ছাড়া, ১৯৯৬ সালে ১৬ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন (২ বার) ও ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন শিল্পপতি মোজাম্মেল হক।

তবে ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে এই আসনটি ধরে রাখে আওয়ামী লীগ। গত চারটি নির্বাচনে আলী আজগার টগর আসনটিতে এমপি ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, টগর ১০ মাফিয়া দিয়ে হাট, ঘাট, বিল, দখল বাণিজ্য, পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়- স্বজনদের ক্ষমতায়ন, বিএনপি-জামায়াতসহ ভিন্ন মতের মানুষদের দমন ও চোরাকারবারি নিয়ে ১৭ বছর কাটিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেই চিত্র পালটে গেছে। এখন তার পরিবার ও সাথীদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজিএমইএর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। সবসময় তিনি রাজনৈতিক ঝামেলা এড়িয়ে চলেন এবং নোংরামী পছন্দ করেন না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে তিনি ভালো আচরণে অভ্যস্ত। বিজিএমইএর নির্বাচনের কারণে তিনি বেশ কিছুদিন এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন। তবে সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি এলাকায় নির্বাচনি কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

মাহমুদ হাসান খান সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি নির্বাচিত হলে এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প-প্রতিষ্ঠান, খাদ্য হিমাগার, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের নায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ ও বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। এ ছাড়া, তার পরিকল্পনায় রয়েছে রাস্তাঘাটসহ সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন। তিনি তার ব্যক্তিগত ইমেজকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, বাকিটা ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও জেলা আমির রুহুল আমিন। জেলার দু’টি আসনের মধ্যে এটি জামায়াত অধ্যুষিত বলে দাবি করা হয়। সারাবাংলাকে রুহুল আমিন বলেন, ‘এই জনপদের মেঠো পথেই আমার বেড়ে ওঠা। সঙ্গত কারণেই আমার জানা আছে, এখানকার মানুষ কি চায়। তারা দু’মুঠো মোটা চালের ভাত আর নিরাপদ জীবন চায়। আমি তাদের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর এই জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, স্থলবন্দর বাস্তবায়ন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার উন্নয়ন, চুয়াডাঙ্গা-কালীগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আধুনিকীকরণ করতে চাই।

অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাসানুজ্জামান সজীবকে এখানে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে তিনি ছেড়ে আসা জোটের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সক্রিয় থাকলেও মাঠের রাজনীতিতে তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি। তার হয়ে নামেমাত্র কিছু নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছে দলটি।

এই আসনের এখানকার ভোটাররা দীর্ঘদিন পর একটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। যদিও সীমান্তবর্তী জেলার মানুষ হিসেবে ভোটারদের অনেকেই অজানা ভয়ে শঙ্কিত। আর শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থী জয়ের মালা পরবেন সেটা দেখার অপেক্ষায় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ভোটাররা।

বিজ্ঞাপন

পল্লবীতে ১০ তলা ভবনে আগুন
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:১৯

আরো

রিফাত রহমান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর