কক্সবাজার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে কক্সবাজার জেলার ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রকেই সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে ছয়টি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা) কার্যালয়ে স্থাপিত উপজেলা কমান্ড সেন্টার থেকে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যাবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে জেলার সবগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একটি ক্যামেরা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে, দুইটি ক্যামেরা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের কক্ষে এবং তিনটি ক্যামেরা কেন্দ্রের সামনের ও পেছনের অংশে স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার অভ্যন্তরীণ ও বহিরাংশ উভয় ক্ষেত্রেই নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্থাপিত সিসিটিভি ব্যবস্থাপনা ও কমান্ড সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কারিগরি প্রস্তুতি ও মনিটরিং কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সুষ্ঠু, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। সিসিটিভি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে যে কোনো অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।’
তিনি সুষ্ঠু, নিরাপদ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আ. আজিজ বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য যেসব প্রস্তুতি প্রয়োজন, নির্বাচন কমিশন তা শতভাগ সম্পন্ন করেছে।’
তিনি জানান, সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় সিসিটিভি স্থাপনের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি সংসদীয় আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন মোট ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ জন ভোটার ভোট দেবেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার ফলে ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।