ঢাকা: বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, দেশজুড়ে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটদানে অংশগ্রহণ করছেন। জনগণের এই অংশগ্রহণই প্রমাণ করে বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয় রুখতে কোনো অপপ্রয়াস সফল হবে না।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের বিএনপির নির্বাচনি অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহিদ এবং গুম হওয়া মানুষের ত্যাগ ও সংগ্রামের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর গণমানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার এই মুহূর্তকে ঘিরে রয়েছে আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও গভীর অনুভূতি।’
তিনি বলেন, ‘পরাজয়ের আশঙ্কায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল গতরাত থেকে বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস ঘটনার জন্ম দিয়েছে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
তবে সচেতন জনগণ সেসব ঘটনা প্রতিহত করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ভোটের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, দায়িত্বপ্রাপ্তরা পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেবেন।’
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সপরিবারে রাজধানীর গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের মানুষ এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।’
তিনি ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানান।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, ‘সারাদেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে নোয়াখালীর হাতিয়া ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামসহ কয়েকটি এলাকায় কিছু অসংগতি ও ধীরগতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও ভোটারদের দীর্ঘ লাইন থাকলেও ভোটগ্রহণের গতি আশানুরূপ নয়।’ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘ভোট জনগণের নাগরিক অধিকার। দীর্ঘদিন পর ফিরে পাওয়া এই অধিকার পুনরুদ্ধারের সুবর্ণ সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার করা উচিত।’
যারা এখনো ভোট দেননি, তাদের দ্রুত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বানও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হবে।’