রাবি: সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই বিজয় উপলক্ষে দোয়া মাহফিল কর্মসূচির আয়োজন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুম্মার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এ বিজয়ে যেন বিন্দুমাত্র অহংকারের জন্ম না হয়। আমরা অনেক আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছি। আমাদের এ আনন্দ যেন অন্য কারও ক্ষতির কারণ না হয়। আমরা অনেক সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছি, তবুও তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আমরা ধৈর্য ধরে ছিলাম। এখন আমরা বিজয় অর্জন করেছি, কিন্তু সেটি যেন অন্যের বিপদের কারণ না হয়।’
ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) রাবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। তার লড়াইয়ের ফলেই বিএনপির এই ভূমিধস বিজয় অর্জিত হয়েছে। আমরা তার দেখানো পথ অনুসরণ করে এগিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ্। যারা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, তাদের আমরা স্মরণ করছি।’
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের ফলে গতকাল বাংলাদেশের জনগণ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন। দুইদিন আগেও আমরা নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ছিলাম — নির্বাচন বাতিল হয়ে যায় কিনা এ নিয়ে। আমরা ভূমিধস বিজয় অর্জন করলেও আমাদের মনে ক্ষতের জায়গা থেকে যায়, কারণ এ বিজয় বেগম খালেদা জিয়া দেখে যেতে পারেননি। আমরা খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
জিয়া পরিষদের রাবি শাখার সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের নেত্রী মরহুম খালেদা জিয়া কতই না চেষ্টা করেছেন! দেশের মানুষ বিএনপিকে ভালোবেসে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। এই ক্ষমতা আমাদের জন্য আমানতস্বরূপ। জনগণের এ আমানত আমরা জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবো, ইনশাআল্লাহ্। তবে আমাদের বিশ্বাস আছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই গুরুদায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করবেন।’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের বিজয়ের পরে কিন্তু কোথাও দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়নি। এটাই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারিশমা। শহীদ জিয়াউর রহমান এই দলের প্রতিষ্ঠাতা — তার গায়ে কোনো কালি নেই। নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ার জন্যই জনগণ বিএনপিকে বিজয়ী করেছেন। আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ্।’
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।