Friday 13 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জনগণের অধিকার আদায়ই হবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: জামায়াত আমির

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:১২

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সকল ধরনের হুমকি-ধামকি, জুলুম-নির্যাতন অগ্রাহ্য করে দেশবাসী যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল আমরা অভিভূত, তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। যেহেতু দেশবাসী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে আমরা আবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। আমরা দৃঢ়ভাবে আপনাদের সঙ্গে থাকব। আপনাদের কোনো অধিকারে সঙ্গে আমরা কম্প্রোমাইজ করব না। অধিকার আদায়ই হবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মগবাজারের দলীয় কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে হার-জিত থাকে। সেই হার-জতিটা যদি স্বাভাবিকভাবে হয় তাহলে সেখানে কারও আপত্তি থাকে না। সবাই মেনে নেয়। কিন্তু সেখানে যদি বড় ধরনের কোনো বৈষম্য অথবা অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবে এটা প্রশ্ন তৈরি করে।

‘আমরা আমাদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী জানানোর পরেও আপনারা লক্ষ্য করেছেন আজকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কর্মী, সমর্থক, এজেন্ট ও ভোটারের বাড়িতে বাড়িতে হামলা হচ্ছে। ব্যক্তির ওপর হামলা হচ্ছে, বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটাতো ফ্যাসিবাদী তৎপরতা। এটা জাতির জন্য খুবই দুর্ভগ্যজনক। এর দায় তাদের নিতে হবে যারা অপকর্মে লিপ্ত হবেন। আমরা চাইলেও তারা যদি ইতিবাচক রাজনীতি করতে না চায়, তাহলে আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করতে পারব না। নির্বাচনে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছেন, যেভাবেই পেয়েছেন এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট আপত্তি আছে। দায় মূলত তাদেরকেই নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা সরকার গঠন করবেন শান্তি রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। এখন এগুলো বন্ধ করতে হবে। এখনো যদি বন্ধ করা না হয়, আমরা বাধ্য হবো, যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে। আমরা নিরীহ দেশবাসী, যারা ভালবেসে একটা পরিবর্তনের পক্ষে গণভোটে হ্যাঁ বলেছেন এবং আমাদের ভোট দিয়েছেন আমরা তাদের বলতে চাই, আপনারা যেমন আমাদের সঙ্গে ছিলেন, আগেও বলেছি, আজকে থেকে আরও শক্তভাবে আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেশ কিছু জায়গার ফলাফল ঘোষণা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে, বিভিন্ন জায়গায় রেজাল্টসিটের ওপর ঘষামাজা করা হয়েছে। কিছু কিছু আসনে দ্বৈতনীতি অবলম্বন করা হয়েছে।’

‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আসনের ব্যাপারে সবাই জানেন। সেন্টার দখল করে একজন নেতার নেতৃত্বে যা হয়েছে তা বিশ্ববাসী দেখেছে। যে কারণে পাটওয়ারীর আসনে ব্যালট গ্রহণ করা হয়েছে, একই কারণে মামুনুল হক সাহেবের ব্যালট বাতিল করা হয়েছে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের সেক্রেটারি জেনারেলসহ বেশ কিছু আসনে এ ধরনের আচরণ করা হয়েছে। যাদের আসনে এই অন্যায় আচরণ করা হয়েছে যাদের অধিকার জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের সিদ্ধান্ত তারা প্রতিকার চাইবেন। সুনির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে যদি প্রতিকার পাই তাহলে এক কথা। যদি না পাই তাহলে এখানেও আমরা বাধ্য হবো আমাদের পথ ধরতে।’

জামায়াত আমির বলেন, আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশনের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা ন্যায়, ইনসাফ করবেন। না করলে দায় তাদেরকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের তরুণ সমাজ যারা বুকের রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে আমাদের ওপর এই আমানত রেখেছে। আমরা কথা দিচ্ছি। আমরা নির্বাচনের আগে যা বলেছি, তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। নারী সমাজের অধিকার এবং তাদের নিরাপত্তা নির্বাচনের আগে বিঘ্নিত হয়েছে। আমরা তাদের নিরাপত্তার জন্য লড়াই করে যাব। কোনো দল নয়, গোষ্ঠি নয়, আমাদের অবস্থান দেশের নাগরিকদের পক্ষে। বিনয়ের সঙ্গে বলব সকল অপকর্ম এখন বন্ধ করুন। আপনাদের নেতৃত্ব আছে, কমান্ড আছে।

‘কোথাও কোথাও ফ্যাসিবাদীদের ঘোষণা দিয়ে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। মনে রাখবেন কিছু মানুষ জীবন দিয়ে ২৬ এনে দিয়েছে। আমরা অনুরোধ করব, ২৪ এর আকাঙ্ক্ষাকে যেন ধারণ করা হয়।’

গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। অবশ্যই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর কোনো ব্যতিক্রম আমরা দেখতে চাই না। হ্যাঁ বিজয়ী হয়েছে যারা সরকার গঠন করবেন বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব। তারা উদ্যোগ নিলে আমরা সহয়োগিতা করব। কেউ যদি এড়িয়ে চলতে চান, আমরা থেমে থাকব না।’

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১১ দলের পক্ষ থেকে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। এই নির্বাচনে ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। ভোট একটা পর্যায় পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে হয়েছিল। আমরা সেটাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু ফলাফল যখন ঘোষণা করার সময় তখন অনেকগুলো আসনকে টার্গেট করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামনুল হকের আসন ঢাকা-১৩, ঢাকা-৮, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের আসন। এ রকম স্পেসিফিক কয়েকটি আসন টার্গেট করে ফলাফল পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে ‘

‘কেন্দ্র দখল করে সেই কেন্দ্রে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। যে প্ল্যানের কথা আমরা শুনেছি তার বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি। আওয়ামী লীগের মতো ফলাফল পরিবর্তন করে তারা কিভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। কি রকম দেশ পরিচালনা করবে সেটা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর দিনই যেভাবে হামলা করা হচ্ছে, আগুন লাগানো, হুমকি এবং বাড়ি ছাড়া করা হচ্ছে, তাদের কাছে এই দেশের মানুষ কিভাবে নিরাপদ থাকবে সেই প্রশ্ন এসেছে। সেটার জন্য আমরা ১১ দল এক হয়েছি। ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজপথে নামার প্রয়োজন হলে নামব।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকে অভিবাদন জানাই তারা গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ৬০ ভাগের ওপরে ভোট দিয়েছে। যারা সংস্কার চায়, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি লুটপাট চায় না, তারা কিন্তু ৬০ ভাগের ওপরে ভোট দিয়েছে। তারা ১১ দলের পক্ষেও এই রায় দিয়েছে। কিন্তু ১০ শতাংশ ভোট কারচুপি করা হয়েছে। না হলে রায় ১১ দলের পক্ষে আসতো। ১১ দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীকে হারানো হয়েছে। এই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জানানো হবে। তারা কি ব্যবস্থা নেয় তার ওপর আমাদের পরবর্তী অবস্থান নির্ভর করবে।‘

মামুনুল হক বলেন, ‘যে নির্বাচন হয়ে গেল ব্যাপক মানুষের উপস্থিতিতে স্বাগতম জানিয়েছি। স্বাভাবিকভাবে স্থীতিশীলতার জন্য বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে তাদের দায়িত্ব। তারাই যদি দেশকে অস্থীতিশীলতার দিকে ঠেলে দেয় তাহলে সেটা হবে দেশের অস্বাভাবিক বিষয় এবং সেটার সম্পূর্ণ দায় তাদের নিতে হবে।’

‘জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে যদি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয় তাহলে আমরা আনকম্প্রোমাইজ থাকবো। আমরা কোনো নমনীয়তা জুলাই বিপ্লবের ক্ষেত্রে করতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘ইলেকশনের যে বিষয়ে আমরা গতকাল থেকে বলে আসছি, আমরা ইতিবাচকভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে চাচ্ছি। ভোটগ্রহণ পর্যন্ত দৃশ্যমান রাখা হয়েছে যাতে কোনো গণ্ডগোল না। কিন্তু গণনা শুরু হওয়ার পর থেকে দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে ভোটগ্রহণ যেভাবে হয়েছে, গণনা তার সম্পূর্ণ উলটোভাবে হয়েছে। মানুষের রায়ের প্রতি চরমভাবে অসম্মান করা হয়েছে। এটা যারা করেছেন বাংলাদেশের কাছে তাদেরকে দায়ী থাকতে হবে। ইতিহাস বার বার ফিরে আসে, বাংলাদেশের মানুষ তাদের সেই ব্যালটের অধিকার অবশ্যই উদ্ধার করে ছাড়বে সেই প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’

এ সময় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

‎সরাসরি ভোটে এমপি হলেন ৭ নারী
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৫

সিলেটে জামানত হারালেন ২০ প্রার্থী
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০৭

আরো

সম্পর্কিত খবর