ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফলাফল জালিয়াতি, কারচুপি ও রেজাল্ট শিটে ঘষা-মাজা করে ফলাফল পরিবর্তনের বিষয়ে জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
শনিবার (১৪ ফেব্রয়ারি) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযাম হোসেন হেলাল, ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান, পাবনা-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক ওলি উল্লাহ নোমান।
ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গায় হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ সব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি তারা তড়িৎ পদক্ষেপ নেবেন।’
তিনি বলেন, ‘সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে অনেক ক্ষেত্রে কারচুপি, জালিয়াতি, ভোট প্রদানে বাধা, এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।’
অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, ‘৩০টি আসনে ভোট জালিয়াতি, কারচুপি, রেজাল্ট শিটে ওভার রাইটিং ও ঘষামাজা হয়েছে- আমরা এ সমস্ত বিষয়গুলো নির্বাচনের দিনেও তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছিলাম। কিছু কিছু আসনে ফলাফল প্রকাশে অনেক দেরি হয়েছিল, আবার কোনো কোনো আসনে বিদ্যুৎ গতিতে দেওয়া হয়েছে।’
এ সময় যে ৩০ আসনে ভোট পুনঃগণনার জন্য আবেদন করা হয়েছে- তা তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসেন হেলাল। তিনি বলেন, ‘এসব আসনে ভোট পুনঃগণনা করলে সত্য প্রকাশিত হবে এবং যাদের পরাজিত করা হয়েছে তারা বিজয়ী হয়ে আসবেন।’
ভোট পুনঃগণনার জন্য আবেদন করা আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে
ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০ , ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, , গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪, কক্সবাজার-৪।
এসব আসনের মধ্যে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে।