Tuesday 17 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মামা-ভাগ্নে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, আনন্দে ভাসছে যমুনাপাড়ের মানুষ

রানা আহমেদ ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:১১

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

সিরাজগঞ্জ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভুমিধস বিজয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। আর এই সরকারে মামা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মন্ত্রী এবং ভাগ্নে ডা. এম এ মুহিত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে স্থান পাওয়ায় আনন্দে ভাসছে যমুনা তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার মানুষ।

জেলার দুই জনপ্রতিনিধি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘মামা-ভাগ্নে’। মন্ত্রিসভায় এই দু’জন স্থান পাওয়ায় আনন্দে উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ। দেখা গেছে, দলীয় নেতাকর্মীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করছে।

মামা মন্ত্রী ও ভাগ্নে প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় তাদের দু’জনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার করে অভিনন্দন জানিয়েছেন, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ফেসবুকে শুভেচ্ছা বার্তা, ছবি ও ব্যানারে ভরে উঠেছে টাইমলাইন। একই সঙ্গে দলীয় কর্মীরা তাঁদের একসঙ্গে তোলা ছবি পোস্ট করে লিখছেন ‘গর্বিত সিরাজগঞ্জ’, ‘মামা-ভাগ্নের হাত ধরে উন্নয়নের নতুন অধ্যায়’ ইত্যাদি স্লোগান। অনেকেই ফুলেল শুভেচ্ছা ও দোয়া কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও টুকুর ভাগ্নে ডা. এম এ মুহিত, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এর আগে, ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও পরে কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জানা গেছে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাবা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ছিলেন পাকিস্তান সরকারের শিল্পমন্ত্রী। ড. এম এ মুহিত সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. এম এ মতিনের ছেলে। তিনি শাহজাদপুর আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো দাঁড়িয়ে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

দীর্ঘদিন পর জেলার রাজনীতিতে এমন প্রাপ্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, মামা মন্ত্রী ও ভাগ্নে প্রতিমন্ত্রী সমন্বিত উদ্যোগে যমুনা ভাঙনরোধ, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতি এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে।

সাধারণ মানুষেরা বলছেন, একই জেলায় দুইজন মন্ত্রী পরিষদে স্থান পেতে দেখে আমরা অত্যন্ত খুশি। আশা করি তাদের নেতৃত্বে যমুনাপাড়সহ আমাদের এলাকার উন্নয়ন আরও দ্রুত গতি পাবে। অনেকেই বিশ্বাস করেন নতুন সরকার শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে।

জেলার ব্যবসায়ী ও তরুণরা বলেন, এটি শুধু রাজনৈতিক অর্জন নয়, পুরো জেলার জন্য গর্বের বিষয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জেলায় রূপান্তর করা হবে।

দলের তৃণমুল্যের নেতাকর্মীরা জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় জেলার সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে। সিরাজগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা মামা-ভাগ্নে নেতৃত্বের হাত ধরে যমুনাপাড়ে শুরু হোক নতুন সম্ভাবনার অধ্যায়।

এদিকে মামা-ভাগ্নেকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের পর আজ যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, তা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। যোগ্যতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক অবদানের ভিত্তিতেই মামা মন্ত্রী এবং ভাগ্নে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন, সুশাসন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই নতুন মন্ত্রিসভা জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একইসঙ্গে সিরাজগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা মামা-ভাগ্নে নেতৃত্বের হাত ধরে যমুনাপাড়ে শুরু হোক নতুন সম্ভাবনার অধ্যায়।

বিজ্ঞাপন

খুলনায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৯
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:২৪

আরো

রানা আহমেদ - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর