সিলেট: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেছেন, সংবাদে ‘টুইস্ট’ করলে সমাজ বিভ্রান্ত হয়। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রের চেয়ে ‘মিডিয়া ওয়ার’ বা তথ্যযুদ্ধ বেশি শক্তিশালী, যা প্রতিপক্ষকে দমনে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি বলেন, মিডিয়ার ভূমিকা হতে হবে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ। সরকারের ভুল হলে তা ধরিয়ে দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি অকারণে প্রশংসা করাও ক্ষতিকর। নিউজ আর ভিউজ আলাদা বিষয়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের শতবছরের স্মারক প্রতিষ্ঠান সিলেট প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গণমাধ্যম সমাজের আয়না উল্লেখ করে ডা. শফিক বলেন, আপনারা কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলবেন। আমার বিরুদ্ধেও কিছু পেলে তুলে ধরুন। নিউজে যা আছে তাই দিন; ভিউজ সমাজ নেবে কি নেবে না, সেটা সমাজের সিদ্ধান্ত, যোগ করেন তিনি।
প্রেসক্লাবে ইফতার মাহফিলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের দায়িত্ব হচ্ছে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি করার সুবিধা তৈরি করে দেওয়া। তারা যতটা সুবিধা তৈরি করে দেবেন দেশ ততটাই লাভবান হবে। সংসদের ভিতরে কিংবা বাইরে সংঘাতের মধ্যে দেশের কোনো উপকার হবে না। বরঞ্চ যদি সত্যিকার অর্থে জনগণকে ধারণ করে সমন্বয় করে রাজনীতি করতে পারি সেটাই জনগণকে উপহার দেবে।
জামায়াত আমির বলেন, গণতান্ত্রিক বিশ্বে এটি হচ্ছে এসেন্স অব ডেমোক্রেসি। এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু আমরা শিখে এসেছি, বিরোধী দল মানে সবকিছুতে বিরোধিতা। আর সরকারি দল মানে সবকিছুতে দমন। ওই দুইটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দমনও চলবে না। আর অন্ধ বিরোধিতাও চলবে না। এই দুইটার সমন্বয় চাই আমরা দেখতে।
সিলেটে ইতিবাচক ও সমন্বয়ের রাজনীতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি বলেন, আমি সংসদে গেলে বা সিলেটে এলে আমার পরিচয় একটাই, আমি আপনাদের মানুষ।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যাশিত ফল না এলেও এবার তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি- এটাই ইতিবাচক রাজনীতির দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে তিনি সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানান, বিরোধী দলের গঠনমূলক রাজনীতির সুযোগ নিশ্চিত করতে।
তিনি সিলেটের ঐতিহ্যগত সামাজিক সৌহার্দ্যের কথা স্মরণ করে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও অতীতে হারমনি বজায় ছিল; ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা সম্ভব।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তাবিস উন-নূরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন উপস্থিত ছিলেন শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট -৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা ও ওকাব-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট এম মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি পারভিন এফ চৌধুরী, এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রকিব, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটে নিযুক্ত সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ রায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ প্রশাসন, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো সিলেটে আসেন ডা. শফিকুর রহমান।