Wednesday 22 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রোজার ক্লান্তি নিয়েই নতুন বইয়ের খোঁজে বইমেলায় দর্শনার্থীরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৫২ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৭

শুক্রবারে বইমেলায় শিশুদের বেশ ভিড় ছিল।

ঢাকা: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব ‘অমর একুশে বইমেলা’। জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলে ক্যালেন্ডারের পাতা উলটে ১ ফেব্রুয়ারির জায়গায় এবার মেলা শুরু হয়েছে ২৬ ফেব্রুয়ারি, যার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়েছে পবিত্র রমজান মাসের সংযম। তবু প্রাণের টানে মেলা প্রাঙ্গণে বইপ্রেমীদের উপস্থিতিতে কমতি নেই।

ছুটির দিন শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেল, রোজা আর কড়া রোদ উপেক্ষা করেই দর্শনার্থীরা নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে ছুটে আসছেন।

জনপ্রিয় কিছু প্রকাশনীর স্টলের সামনে পাঠক-দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো; কেউ নতুন বই নেড়েচেড়ে দেখছেন, কেউবা প্রিয় লেখকের কাঙ্ক্ষিত বইটি সংগ্রহ করছেন।

বিজ্ঞাপন

মেলায় আসা পাঠকদের কণ্ঠেও ছিল ভালো লাগার প্রতিধ্বনি। বেসরকারি চাকুরিজীব ফারহান হোসেন বলেন, এবারের পরিবেশটি অন্যবারের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হলেও বইয়ের মায়া আমাকে টেনে এনেছে। মেলা এবার কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও আমাদের বইপ্রেমীদের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় পাওয়া। কিছু নতুন বই পাব। তা নিয়েই খুশী।

সাধারণ পাঠকের পাশাপাশি প্রকাশকরাও বেশ আশাবাদী। অন্যপ্রকাশের পরিচালক সিরাজুল কবির চৌধুরী বলেন, সব প্রতিকূলতার মাঝেও মেলা শুরু হওয়াটা প্রকাশকদের জন্য এক বিশাল সাফল্য। রমজানের কারণে দিনের বেলায় লোকসমাগম কিছুটা হালকা থাকলেও বিকেলের পর তা বাড়তে শুরু করেছে। আশা করছি সামনের দিনগুলোতে মেলা আরও জমে উঠবে।

শুক্রবার মানেই শিশুদের জন্য বিশেষ উপহার, আর সেই ধারাবাহিকতায় এদিন মেলায় উদযাপিত হয়েছে বছরের প্রথম ‘শিশুপ্রহর’। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ ছিল কচিকাচাদের হাসিকান্না আর কলকাকলিতে মুখর। চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণকে রঙিন করে তোলে তারা।

ধানমন্ডি থেকে আসা ছোট্ট ইশফাক সৃষ্টি বাবার হাত ধরে মেলায় এসে পাপেট শো দেখে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। সে বলছে, ‘আমার পাপেট শো ভালো লেগেছে। আর অনেকগুলো নতুন গল্পের বই কিনেছি। ভূতের বই, ছড়ার বই, ড্রংয়িং শেখার বই কিনেছি। ভালো লেগেছে।’

এবার লিটলম্যাগ চত্বরের পাশেই সাজানো হয়েছে বর্ণিল শিশুচত্বর, যেখানে মোট ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের ১০৭টি ইউনিট রাখা হয়েছে শিশুদের বইয়ের জন্য।

‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে উদ্বোধন হওয়া এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। রমজান উপলক্ষ্যে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তারাবি নামাজের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

১৫ মার্চ পর্যন্ত মেলা চলবে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, তবে ছুটির দিনগুলোতে দুয়ার খুলে যাবে সকাল ১১টাতেই। যদিও কিছু স্টলে এখনো হাতুড়ি-করাতের ঠুকঠাক শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, তবু অমর একুশে বইমেলা তার স্বকীয়তা নিয়ে এগিয়ে চলেছে এক সার্থক সমাপ্তির দিকে।

সারাবাংলা/এফএন/এইচআই