Tuesday 03 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘বিপ্লব-পরবর্তী চার্টারকে অপ্রাসঙ্গিক করার উদ্যোগ হবে রাজনৈতিক-আইনি ভুল’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩ মার্চ ২০২৬ ০৯:৩৩ | আপডেট: ৩ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৩

ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, ‘একটি বিপ্লব-পরবর্তী চার্টারকে অপ্রাসঙ্গিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা হবে রাজনৈতিক ও আইনি ভুল। বিচার বিভাগের কাঁধে বন্দুক রেখে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করা সঠিক নয়।’

সোমবার (২ মার্চ) রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে তিনি এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, আজ সোমবার (২ মার্চ) দুটি রিট পিটিশনের শুনানি হয়েছে। একটি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং সাংবিধানিক সংস্কার সভা গঠন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে সংবিধান সংস্কার সভার সপক্ষে কেন সাংবিধানিক ঘোষণা দেওয়া হবে না- এই মর্মে একটি রুল চাওয়া হয়েছে। যত দিন পর্যন্ত রুল নিষ্পত্তি না হবে, তত দিন পর্যন্ত একটি নিষেধাজ্ঞা আদেশ চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরেকটি রিট পিটিশনে গণভোট অধ্যাদেশের ধারায় যেখানে প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না- এই মর্মে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।

এই রিট পিটিশনে আইন মন্ত্রণালয়, সেক্রেটারি, কেবিনেট ডিভিশন; সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সেক্রেটারির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে, যেন এ বিষয়সংক্রান্ত কোনো পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ না করা হয়। এই রিটের ওপর শুনানি হয়েছে।

শুনানিতে আমরা যে কথাগুলো বলার চেষ্টা করেছি, গণভোটের প্রশ্নকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। গণভোট তো হয়েই গেছে। প্রশ্নের ওপর মানুষ মতামত দিয়েই দিয়েছে। প্রশ্নে যখন ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দেওয়া হয়, তখন প্রশ্নকে চ্যালেঞ্জ করার অর্থ কী? এখন তো আর প্রশ্নকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে না; চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে গণভোটের ফলাফলকে। যদিও বলা হচ্ছে প্রশ্নকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন তো ইতোমধ্যে ফলাফলে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ ফলাফলকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো- জুলাই জাতীয় সনদ হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে, মাত্র কয়েকটি ভিন্নমত ছাড়া। যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জারি করা হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে- জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ আদেশ জারি করেছেন। এই আদেশটিকেও তারা সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করছেন।

তিনি বলেন, একটি ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো- তারা জাতীয় নির্বাচনের অংশটুকু চ্যালেঞ্জ করেন না; শুধু গণভোটের অংশটুকু চ্যালেঞ্জ করেন। অথচ গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে, পাশাপাশি ব্যালটে হয়েছে। আপনি যদি গণভোট অধ্যাদেশের ৩ নম্বর ধারা চ্যালেঞ্জ করেন, তাহলে জাতীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করেন না কেন? জাতীয় নির্বাচন ঠিক থাকবে, কিন্তু গণভোট থাকবে না- এমনটি কীভাবে সম্ভব? এতে বোঝা যায়, এই দুটি রিট পিটিশন ক্যালকুলেটিভ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অতীতে আদালতকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে, যা বুমেরাং হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এর সমাধান হওয়া উচিত।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে যাতে ফ্যাসিবাদী শাসন আর ফিরে না আসে, এজন্য সংস্কারের প্রস্তাবগুলো সর্বসম্মতভাবে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হয়েছে। এটা এখন জাতীয় সংসদের বিষয়। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে। সেখানে সংসদ সদস্যগণ, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এ বিষয়টি আলোচনা করবেন। এখন এ বিষয়টি আদালতের কাঁধে রেখে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যারা চেষ্টা করছেন, আমরা মনে করি সেটা সঠিক নয়। এই প্রেক্ষাপটে আমরা আহ্বান জানাতে চাই- যে বিষয়টি জাতীয় সংসদের, তা জাতীয় সংসদ সদস্যদেরই পালন করতে দেওয়া উচিত।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর