ঢাকা: ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে সারাদেশে বিপুলসংখ্যক নারী রাজপথে নেমে এলেও পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকের কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। সেই সব নারী কর্মীদের খুঁজে বের করে তাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা সামনে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-র সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাতীয় নারী শক্তি’র আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে যত বড় গণআন্দোলন হয়েছে, সেখানে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন গণআন্দোলনেও নারীরা শুধু সমর্থনই দেননি, বরং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব আন্দোলনে সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যও অনেক সময় নারীরাই হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনের শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা আন্দোলনকে নতুন মোড় দেয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অগ্রভাগে নারীরা থাকায় তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই সময় ঢাকা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য ছাত্রী রাতের বেলায় রাজপথে নেমে আন্দোলনে অংশ নেন, যা আন্দোলনকে একটি নৈতিক শক্তি জোগায় এবং তা দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।’
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় থাকলেও পরবর্তী সময়ে অনেক নারী নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকতে পারেননি। সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক চাপ এবং বিশেষ করে সাইবার বুলিংয়ের মতো সমস্যার কারণে অনেকেই পিছিয়ে গেছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীদের লক্ষ্য করে অপপ্রচার ও হয়রানির কারণে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছেন।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, “নারীর অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘জাতীয় নারী শক্তি’ কাজ করবে। সংগঠনটি এনসিপির সহযোগী হিসেবে কাজ করলেও নারীদের বিষয়গুলোকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরবে এবং তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করবে।”
তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশে নারীদের সংগঠিত করা, তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যেও সংগঠনটি কাজ করবে।’
সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী কর্মী ও শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।’